1 Answers
ছকে বর্ণিত পাল বংশীয় রাজা মাৎস্যন্যায় নীতি বিলোপে ভূমিকা রেখেছিলেন।
অষ্টম শতকে বাংলার শাসন ব্যবস্থায় অরাজকতা দেখা দেয়। দেশে তখন কোনো রাজা ছিল না। পরিস্থিতি ছিল ক্ষমতাধরদের নিয়ন্ত্রণে। এরূপ বিশৃঙ্খল অবস্থাকে বলা হতো 'মাৎস্যন্যায়'। মাৎস্যন্যায় বলতে ন্যায়- নীতিহীন ব্যবস্থাকে বোঝায়। অর্থাৎ বড় মাছ যেমন নির্বিচারে ছোট মাছদের খেয়ে ফেলে তেমনি অষ্টম শতকে বাংলার বলবানরা দুর্বলদের শোষণ ও পীড়ন করত। এরূপ পরিস্থিতিকে 'মাৎস্যন্যায়' বলে। এরূপ অবস্থায় বাংলার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গোপালকে রাজপদে অভিষিক্ত করেন। তিনি পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা। ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রাজা হন।
রাজা গোপালের পিতার নাম ছিল বপ্পট দেব। তিনি ছিলেন গৌড়ের দয়িতবিষ্ণুর পৌত্র। গোপাল প্রায় কুড়ি বছর রাজত্ব করেন। তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম নির্বাচিত গণতান্ত্রিক রাজা। তাঁর মৃত্যুর পর রাজপদে অভিষিক্ত হন তাঁর পুত্র ধর্মপাল। রাজা ধর্মপালের সময় বিক্রমশীল ও সোমপুর মহাবিহারসহ বহু বৌদ্ধধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। রাজা ধর্মপালের উত্তরাধিকার হয়েছিলেন তাঁর পুত্র দেবপাল। এভাবে পাল বংশ প্রায় চারশত বছরব্যাপী বাংলায় রাজত্ব করে।