1 Answers
ছকে বর্ণিত সভার বৈশিষ্ট্যাবলি তৃতীয় সঙ্গীতের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
বৌদ্ধধর্ম ভারত বর্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রসার লাভ করায় অনেক তীর্থিক বা সন্নাসীগণ অধিক লাভ-সৎকারের আশায় মস্তক মুন্ডন করে এবং পাত্র চীবর ধারণ করে ভিক্ষু বলে পরিচয় দেন। তাঁরা বিনয় বহির্ভূত আচরণের মাধ্যমে বিহার ও মন্দির দখল করে এবং ধর্মকে অধর্ম, অধর্মকে ধর্ম বলে প্রচার করেন। এছাড়াও তাদের উৎপাতে বিনয়ী ভিক্ষুগণ কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এর প্রেক্ষিতে সম্রাট অশোক মগধের রাজধানীতে সভা আহ্বান করেন। সভায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় সম্রাট অশোক অবিনয়ী ছদ্মবেশী ভিক্ষুদের সংঘ থেকে বহিস্কার করেন।
সঙ্ঘ বিশুদ্ধ হওয়ার পর মোগলীপুত্র তিষ্য স্থবির প্রকৃত বুদ্ধবাণী সংকলনের জন্য তৃতীয় সঙ্গীতি আহ্বান করেন। সঙ্গীতির জন্য ধর্ম-বিনয়ে পারদর্শী ত্রিবিদ্যাসম্পন্ন এক হাজার অর্হৎ ভিক্ষু নির্বাচন করেন। এ সঙ্গীতি মোগলীপুত্র তিষ্য স্থবিরের সভাপতিত্বে প্রথম ও দ্বিতীয় সঙ্গীতির অনুসরণে ধর্ম-বিনয় সংগৃহীত হয়। এই সঙ্গীতিতে মোগ্গলীপুত্র তিষ্য স্থবির 'কথাবন্ধু' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। নয় মাস ব্যাপী চলে এ সঙ্গীতি। স্মৃতিধর অর্হৎ ভিক্ষুগণ শুদ্ধ বুদ্ধবাণী পুনরায় স্মৃতিতে ধারণ করে নেন। এ সঙ্গীতিতে সর্বপ্রথম অভিধম্ম পিটকের উল্লেখ করা হয় এবং বৃদ্ধবচনকে 'ত্রিপিটক' আখ্যা দেওয়া হয়।
উপরে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ছকে বর্ণিত তথ্যগুলো তৃতীয় সঙ্গীতির কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।