1 Answers

তমালের জানা নতুন উদ্ভাবিত রাজবংশটি হলো 'বর্ম রাজবংশ'।

বর্ম উপাধিধারী এক রাজবংশ দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয় একাদশ শতকের শেষভাগে। এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেন জাতবর্মা। কলচুরিরাজ কর্ণের সাথে বর্মরা এদেশে এসেছিল বলে মনে করা হয়। পিতার মতো তিনিও ছিলেন কলচুরিরাজ গাঙ্গেয়দেব এবং কর্ণের সামন্তরাজ। কৈবর্ত বিদ্রোহের সময় তিনি শ্বশুর কলচুরিরাজ কর্ণের সাহায্য ও সমর্থনে দক্ষিণ- পূর্ব বাংলায় স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। বর্মদের রাজধানী ছিল বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে। জাতবর্মার পর তার জ্যেষ্ঠ পুত্র হরিবর্মা একটানা ৪৬ বছর রাজত্ব করেন। পাল রাজাদের সাথে তিনি বন্ধত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলতেন। হরিবর্মা নাগাভূমি ও আসাম পর্যন্ত ক্ষমতা বিস্তার করেছিলেন। হরিবর্মার পর তার এক পুত্র রাজা হয়েছিলেন। তবে তার রাজত্বকালের কোনো বিবরণ পাওয়া যায় না। তারপর জাতবর্মার পুত্র সামলবর্মা রাজা হন। সামলবর্মার পুত্র ভোজবর্মা ছিলেন বর্ম রাজবংশের শেষ রাজা। সম্ভবত দ্বাদশ শতকে সেনদের হাতে বর্মদের পতন ঘটে।

উদ্দীপকে তমাল একটি বই পড়ে জানতে পারে একটি রাজবংশ ১৫০ বছর ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু একাদশ শতকের শেষভাগে বংশটি পতনের মাধ্যমে নতুন একটি বংশের উদ্ভব ঘটে। উক্ত নতুন রাজবংশের উদ্ভব উপরে আলোচিত 'বর্ম রাজবংশের' উদ্ভবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, একাদশ শতকের শেষভাগে চন্দ্র বংশের পতনের পর দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বর্ম রাজবংশের উদ্ভব ঘটেছিল।

6 views

Related Questions