1 Answers

শাসক 'ক' দ্বারা রাজা গোপালকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তিনি মাৎস্যন্যায় অবস্থা দূর করার পাশাপাশি পাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।

রাজা গোপালের পূর্ব জীবন সম্পর্কে তেমন বিশেষ কিছু জানা যায়নি। তার পিতার নাম বপ্যট এবং পিতামহ ছিলেন দয়িতবিষ্ণু। তাদের নামের আগে কোনো রাজকীয় উপাধিও দেখা যায় না। এতে ধারণা করা হয়, তারা সাধারণ ব্যক্তি ছিলেন। গোপালের সিংহাসনে আরোহণের মধ্য দিয়ে বাংলায় পাল বংশের রাজত্ব শুরু হয়।

রাজা গোপাল সিংহাসনে আরোহণ করেন ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি যখন সিংহাসনে আরোহণ করেন তখন বাংলায় এক অরাজক অবস্থা বিরাজ করছিল। কেননা দীর্ঘদিন বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিল না। পুকুরের বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গিলে ফেলে এ সময়ে বাংলার অবস্থা ছিল ঠিক তেমন। এ কারণে এ সময়কালকে পাল তাম্রশাসনে 'মাৎস্যন্যায়' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এ সময় বাংলার সবল অধিপতিরা ছোট ছোট অঞ্চলগুলোকে গ্রাস করছিলেন। এ অবস্থা চলে প্রায় একশ বছর ব্যাপী। অষ্টম শতকের মাঝামাঝি সময়ে গোপাল সিংহাসনে আরোহণ করে এ অবস্থার অবসান ঘটান। পরবর্তীতে গোপাল রাজ্য বিস্তারে মনোযোগ দেন। তিনি বাংলার উত্তর এবং পূর্ব অংশের প্রায় সব অঞ্চলই রাজ্যভুক্ত করেন। কার্যত রাজা গোপাল অরাজকতা সৃষ্টিকারী শক্তিসমূহকে সমূলে উৎপাটিত করে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপনে সক্ষম হয়েছিলেন এবং প্রাথমিক সাফল্যের কারণে তিনি জনসমর্থনও লাভ করেছিলেন।

উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে শান্তি স্থাপন রাজা গোপালের এক অনন্য কীর্তি।

5 views

Related Questions