1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় নিদর্শনটি সমতট জনপদে অবস্থিত।

কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে প্রাচীন সমতট জনপদ গঠিত হয়েছিল। আবার অনেকে মনে করেন কুমিল্লার প্রাচীন নাম সমতট। আর উদ্দীপকের দ্বিতীয় নিদর্শনটি যেহেতু কুমিল্লার ময়নামতিতে পাওয়া গিয়েছে, তাই বলা যায় দ্বিতীয় নিদর্শনটি সমতট জনপদে অবস্থিত।

বাংলায় প্রাচীনকালে যেসব জনপদ বিকাশ লাভ করেছিল তার মধ্যে সমতট অন্যতম। প্রাচীন জনপদ হিসেবে সমতটের বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। এই জনপদ থেকে প্রাপ্ত নিদর্শনগুলো প্রাচীন বাংলার ইতিহাস পুনর্গঠনে ইতিহাসের উপাদান হিসেবে কাজ করছে। সমতট জনপদের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কুমিল্লার ময়নামতির শালবন বিহার। এই বিহার থেকে তৎকালীন সময়ের ব্যবহৃত মুদ্রা, লিপি, টেরাকোটা, মূর্তি, সিলমোহর, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, ব্যবহার্য নানা জিনিসপত্র প্রভৃতি পাওয়া গিয়েছে। এসব প্রত্ননিদর্শন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে। এ কারণে লিপিকে ইতিহাসের জীবন্ত দলিল বলা হয়। পাথর, ব্রোঞ্জ, পোড়ামাটির উপর খোদাই করা লিপি থেকে তৎকালীন রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক এবং ধর্মীয় জীবনযাত্রার পরিচয় পাওয়া যায়। মুদ্রা থেকে রাজা বা শাসকের নাম, সাল, তারিখ প্রভৃতি জানা যায়। এছাড়া ময়নামতির প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষগুলো সমতট জনপদের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে এখনো টিকে রয়েছে। এই শালবন বিহারের গঠনশৈলী থেকে বোঝা যায়, এটি বৌদ্ধ শিক্ষা ও ধর্মচর্চার কেন্দ্র ছিল। ময়নামতির প্রাচীন নিদর্শনগুলোর স্থাপত্যশৈলী, গঠন কাঠামো, ধাতুর তৈরি জিনিসপত্রের উৎকর্ষতা প্রভৃতি থেকে সেই অঞ্চলের তৎকালীন মানুষের জীবনযাত্রার গুণাবলী ও মান সম্পর্কে ধারণা করা যায়।

পরিশেষে বলা যায়, প্রাচীন বাংলার ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধানে জনপদগুলো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ভূমিকা রাখছে। জনবসতির বিস্তৃতি, তাদের জীবন-প্রণালী, ধর্ম, আর্থ-সামাজিক অবস্থা প্রভৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে জনপদের নিদর্শনগুলো তথ্য ও উপাত্ত প্রদান, করে থাকে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত সমতট জনপদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

5 views

Related Questions