1 Answers

সড়ক দুর্ঘটনা একটি পরিবারের সারা জীবনের কান্না। সড়ক দুর্ঘটনা শুধু পারিবারিক জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না। আর্থসামাজিক ও মানসিক জীবনকেও দুর্বিষহ করে তোলে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও দুর্ঘটনার প্রধান শিকার পথচারী। এ পথচারীদের সিংহভাগ নিহত হয় দেশের জাতীয় এবং আঞ্চলিক হাইওয়েতে। তবে পরিতাপের বিষয় নিহতের সংখ্যার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পথচারী শিশু ও পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সড়ক দুর্ঘটনার প্রভাব পারিবারিক, সামাজিক এবং জাতীয় জীবনে খুবই মারাত্মক, যা আবার বহু সমস্যার জন্মদাতাও। হাইওয়ে পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় পতিত ব্যক্তিদের ২৪% লোকের বয়স ১৫ বছরের নিচে এবং ৩৯% লোকের বয়স ১৬-৫০ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা ফলাফলে দেখা যায় বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান শিকার হচ্ছে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দুর্ঘটনার শিকার হলে পরিবারটি প্রথমে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনায় নিপতিত ব্যক্তি শারীরিকভাবে পঙ্গু হলে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে যা তার ব্যক্তিজীবনকে ভারসাম্যহীন করে তোলে। মানসিক ভারসাম্যহীনতা ব্যক্তি জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। এ সমস্যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আত্মহত্যার রূপ নেয়। আবার দেখা যায়, পঙ্গু ব্যক্তিটি ভিক্ষাবৃত্তির মতো পেশা গ্রহণ করতে। কেউ কেউ জীবন নির্বাহের জন্য অপরাধ জগতে প্রবেশ করে।

তাই বলা যায়, সমাজ জীবনে রয়েছে এ দুর্ঘটনার ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব।

5 views

Related Questions