1 Answers

নারীর প্রতি সহিংসতার বহু কারণ রয়েছে। আমাদের সমাজব্যবস্থায় বিভিন্ন কাজে নারীকে সর্বদা অপারদর্শী হিসেবে পরিগণিত করা হয়। বাইরের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত রাখা, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, বৃদ্ধ বয়সে বেঁচে - থাকার জন্য পুরুষ সন্তানের প্রতি নির্ভরশীলতা, পরিবারের কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণে পিতামাতার মনোবাঞ্ছনার অপূরণ এবং ক্রমাগত কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণে পুত্র সন্তানের জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠা প্রভৃতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নারীর প্রতি সহিংসতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া যৌতুক প্রথা, পর্দাপ্রথা, নারীকে শিক্ষা থেকে বঞ্চনা, ফতোয়া প্রভৃতি সামাজিক কুপ্রথা নারী সহিংসতার গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আমাদের সমাজে প্রধানত দরিদ্র, নিম্নবিত্ত পরিবারে যৌতুকের ঘটনা বেশি ঘটে। অর্থনৈতিক দুরবস্থা আমাদের দেশে যৌতুক প্রথাকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে উৎসাহিত করছে। ক্রমে যৌতুকপ্রথা পরিণত হয়েছে সহিংসতার হাতিয়াররূপে। উদ্দীপকে শ্যামল বাবুর ছয় জন কন্যা সন্তান রয়েছে। তার কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় সে তার কন্যা সন্তানদের সঠিকভাবে লালন-পালন করে না ও স্ত্রীকে নির্যাতন করে। শ্যামল বাবুর কন্যারা চাকরিতে পুরুষদের চেয়ে কম বেতন পায়। মহল্লার 'বখাটে ছেলেরা তার মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করে। উদ্দীপকে শ্যামল বাবুর কন্যাদের যে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হতে দেখা যায়, তা শুধু তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয় বরং এটি সমগ্র নারী জাতির সহিংসতার একটি উদাহরণ মাত্র।

নারীর প্রতি সহিংসতা একটি অসামাজিক ঘৃণ্য কাজ। তাই বলা যায়, নাররি প্রতি বৈষম্য প্রতিরোধে সকলকে সচেতন হতে হবে।

5 views

Related Questions