1 Answers

উদ্দীপকে যে আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে বর্তমান বাংলাদেশের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায় যে, গত ৪৬ বছরে বাংলাদেশ সরকারি বিভিন্ন নীতি ও কৃষক-শ্রমিকসহ সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় দারিদ্র্যের হার ৭০ শতাংশ থেকে ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত পাঁচটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, একটি দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য ছিল দারিদ্র্য বিমোচন। দারিদ্র্য হ্রাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানব উন্নয়নসূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। বাংলাদেশের মানব উন্নয়নসূচক দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান, নেপাল, আফগানিস্তানের তুলনায় ভালো। বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে উন্নয়ন সহযোগীদের পরামর্শক্রমে প্রণীত 'জাতীয় দারিদ্র্য নিরসন কৌশলপত্র' ও 'জাতীয় দারিদ্র্য নিরসন কৌশলপত্র-২, দিন বদলের পদক্ষেপ' বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। বিশেষত শিক্ষার প্রসার, শিশু মৃত্যুহার হ্রাস ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে বলে মত প্রকাশ করেছেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বাস্থ্যরক্ষায় বাংলাদেশ সরকার মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান, টিকাদান দুঃস্থ নারীদের সহায়তা প্রকল্প, নারী শিক্ষা বিস্তারে উপবৃত্তি দান প্রকল্প ইত্যাদি গ্রহণ করেছে। ২০১০ সালে প্রণীত হয়েছে 'পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন'। নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার রক্ষায় এ আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা দিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি যেমন- কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি, ভিজিএফ, ভিজিডি, টিআর প্রভৃতি চালু করেছে। শিশুদের সুরক্ষা ও তাদের জীবন বিকাশের জন্য সরকার ২০১১ সালে প্রণয়ন করেছে জাতীয় শিশু নীতি-২০১১। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যে বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য এদেশের ছাত্র ও সাধারণ মানুষ রক্ত দিয়েছিল তা আজ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করছে। বাংলাদেশের বাংলা বর্ষবরণ উদযাপনে যে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয় তা ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। ফলে আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

4 views

Related Questions