1 Answers
উদ্দীপকে বাংলাদেশের শিশুশ্রমের বিষয়টির ইঙ্গিত রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও শিশুশ্রম আছে। যে বয়সে একটি শিশু স্কুলে যাওয়া আসা করবে, সমবয়সীদের সাথে খেলাধুলা করবে ঐ বয়সে দরিদ্র শিশুদেরকে কাজ করতে হয় জীবিকার সন্ধানে। উদ্দীপকে উল্লিখিত রিকশা চালক কাশেমের পাঁচ সদস্যের কারণে ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া বড় ছেলের লেখাপড়া বন্ধ করে মোটর গ্যারেজে কাজ করতে হয়। ১৫ বছরের নিচে কোনো শিশুকে কাজ করানো হলে তাকে শিশুশ্রম বলে। বাংলাদেশে শিশুশ্রমের প্রথম এবং প্রধান কারণ হচ্ছে অর্থনৈতিক দুরবস্থা। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ভরণ-পোষণ মিটিয়ে সন্তানের লেখাপড়ার খরচ যোগানো বাবা-মার পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে তাদের স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। এ অবস্থায় পিতা বা মাতা মনে করেন সন্তান কোনো পেশায় নিয়োজিত হয়ে আয়-রোজগার করলে পরিবারের উপকার হবে। শিশুদের অল্প মূল্যে খাটানো যায় বলে নিয়োগকর্তারাও শিশুদেরকে কাজে লাগানোর জন্য উৎসাহী হয়। দরিদ্র পিতামাতা শিক্ষাকে একটি অলাভজনক কর্মকাণ্ড মনে করে। সন্তানদেরকে ১৫ ও ১৬ বছর ধরে লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাওয়ার মতো ধৈর্য ও অর্থ তাদের থাকে না। তাই বাংলাদেশে শিশুশ্রমের মাত্রা অনেক বেশি। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে শিশুশ্রমের বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যার প্রধান কারণ হলো দরিদ্রতা।