1 Answers

জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এ ছিল শ্রীশঙ্করাচার্যের জীবনের চরম সত্য। দাক্ষিণাত্যের কেরল রাজ্যে কালাড়ি নামে এক গ্রামে ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দের বৈশাখী শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে শঙ্করাচার্য জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শিবগুরু এবং মাতার নাম বিশিষ্টা দেবী। শিবগুরু ছিলেন একজন শাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণ এবং শিবভত। শ্রীশঙ্করাচার্যের ছিল অসাধারণ মেধা ও স্মৃতিশক্তি। অল্পদিনেই তাঁর পান্ডিত্যের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কতিপয় বিদ্বান ব্রাহ্মণের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী অল্প বয়সে মৃত্যুর কথা শুনে তাঁর ভেতরে এক বিরাট পরিবর্তন আসে। জীবন ও জগৎ সম্পর্কে তিনি নতুন করে ভাবতে লাগলেন। তিনি ভাবলেন, মোক্ষলাভই মানুষের চরম লক্ষ্য। তাই ব্রহ্ম-সাধনায় তিনি বাকি জীবন কাটিয়ে দেন। তিনি যখন ধর্মগুরু হিসেবে আবির্ভূত হন তখন আচার্য নামে খ্যাত। শঙ্করাচার্য বদরিকাশ্রম থেকে পুণ্যধাম বারাণসীতে আসেন। সেখানে ধর্ম প্রচার শুরু করেন। তাঁর ধর্মের মূল কথা 'অদ্বৈতবাদ'। তিনি বলেন, 'ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই।' জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই- এ কথা বলে তিনি মানুষের প্রতি মানুষের এমনকি জীবের প্রতিও মানুষের ভালোবাসাকে জাগিয়ে তোলেন। এর ফলে জীবহিংসা কমে যায়। এটা শঙ্করাচার্যের একটা বড় অবদান।

5 views

Related Questions