1 Answers

হ্যাঁ, ডা. রবিনের মধ্যে প্রাচীন ভারতের চিকিৎসক চরকের আদর্শ লক্ষ করা যায়।

চরক ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক। তাঁকে 'ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক' বলা হয়। উদ্দীপকের ডা. রবিন দেশের একজন স্বনামধন্য সার্জন এবং তার হাতে কখনো কোনো রোগীর মৃত্যু ঘটেনি বিধায় তাঁকে সবাই ভগবান ডাক্তার বলে সম্বোধন করে। তার মাঝে প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসক চরকের আদর্শ লক্ষ করা যায়। চরক মানুষের চিকিৎসা শুরু করার অল্পদিনের মধ্যেই একজন সুচিকিৎসক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তাঁর পূর্বে আত্রেয়, অগ্নিবেশ প্রমুখ আরও চিকিৎসক ছিলেন। তাঁরা বৈদ্যক বা চিকিৎসা গ্রন্থও রচনা করেছিলেন। চরক সেসবের সংস্কার ও সারাংশ গ্রহণ করে একখানা নতুন গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। তার নাম 'চরকসংহিতা'। প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে এটি একখানা বিখ্যাত গ্রন্থ। গ্রন্থটি আটটি ভাগে বিভক্ত- সূত্রস্থান, নিদানস্থান, বিমানস্থান, শারীরস্থান, ইন্দ্রিয়স্থান, চিকিৎসাস্থান, কল্পস্থান ও সিদ্ধিস্থান। বিষ্ণু যখন মৎস্যাবতাররূপে আবির্ভূত হন, তখন অনন্তদেব অথর্ববেদের অন্তর্গত আয়ুর্বেদ লাভ করেন। এরপর তিনি মানুষের অবস্থা দেখার জন্য পৃথিবীতে আগমন করেন। দেখেন, অনেকেই ব্যাধিগ্রস্ত হয়ে বেদনায় কাতর। তা দেখে তিনি ভীষণ কষ্ট পান। তাই মানুষের কষ্ট দূর করার জন্য তিনি একজন মুনিপুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করেন। চরকরূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন বলে তাঁর নাম হয় চরক। আধুনিক গবেষকদের মতে চরক খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে আবির্ভূত হন। তিনি মানবদেহের পরিপাক, বিপাক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, প্রজননবিদ্যা, শিশুর লিঙ্গ নির্ণয়, মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেছিলেন। চিকিৎসাশাস্ত্রে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। তাই বলা যায়, ডা. রবিনের মধ্যে প্রাচীন ভারতের চিকিৎসক চরকের আদর্শ লক্ষ করা যায়।

4 views

Related Questions