1 Answers

না, সৌমিত্র ও তার বাবার মধ্যে ধর্মের একই লক্ষণ কাজ করেনি।

ধর্মের বেশকিছু লক্ষণ রয়েছে। এর মধ্যে বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের বাণী এ চারটি ধর্মের বিশেষ লক্ষণ। আর সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, চুরি না করা, শুচিতা, ইন্দ্রিয়সংযম, শুদ্ধ বুদ্ধি, জ্ঞান, সত্য এবং ক্রোধহীনতা এ দশটি হলো ধর্মের বাহ্য লক্ষণ। উদ্দীপকের সৌমিত্রের মধ্যে ধর্মের বাহ্য লক্ষণ প্রকাশিত হলেও তার বাবার আচরণে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ ফুটে উঠেছে। দুজনের আচরণই ধর্মের পক্ষে সহায়ক হলেও লক্ষণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সৌমিত্রের আচরণে ধর্মের বাহ্য লক্ষণসমূহ প্রতিফলিত হলেও তার বাবার সাধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে ধর্মের একটি বিশেষ লক্ষণ সদাচার। বেদে বিশ্বাস রেখে স্মৃতিশাস্ত্রের অনুশাসন মেনে এবং মহাপুরুষদের আচরিত কার্যক্রম তথা সদাচার থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে জীবনে চলতে হয়। আর এতেও যদি সমস্যার সমাধান না হয় তখন নিজেকে বিবেকের দ্বারা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কাজে লাগাতে হয় নিজের অভিজ্ঞতালব্ধ কর্তব্য- অকর্তব্যের জ্ঞানকে। উদ্দীপকের সৌমিত্রের অসৎ কাজ না করা, কারও সাথে রাগ না দেখানো ইত্যাদি ধর্মের বাহ্য লক্ষণের পরিচায়ক। অপরদিকে, তার বাবাকে এক সাধু পরামর্শ দিয়ে উদ্ধার করায় সৌমিত্রের বাবা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এটি সদাচারের বহিঃপ্রকাশ। তাই আমি মনে করি, সৌমিত্র ও তার বাবার মাঝে ধর্মের একই লক্ষণ কাজ করেনি।

4 views

Related Questions