1 Answers

লিপি দেবীর কাজটি শ্রীমার কাজের আলোকে যথার্থ।

শ্রীমা জীবপ্রেমী ছিলেন। জীব, উদ্ভিদ সবকিছুর প্রতিই তিনি ছিলেন। অত্যন্ত যত্নবান। আশ্রমের বৃক্ষ, লতা-পাতা তাঁর পরিচর্যা পেত। তাঁর মতো জীবসেবা করার দৃষ্টান্ত অত্যন্ত বিরল। উদ্দীপকের এ নিখিল বাবুর স্ত্রী লিপি দেবীর মাঝেও শ্রীমার এ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। তিনি সংসারের কাজকর্মের পাশাপাশি বাড়ির আশপাশও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন। ফুল গাছের চারা রোপণ করার মধ্য দিয়ে তিনি ফুল ও গাছের প্রতি তার ভালোবাসাকেই তুলে ধরেছেন। আশ্রমবাসিনী শ্রীমার মমতাই যেন প্রতিফলিত হয়েছে লিপি দেবীর মাঝে। আশ্রমের সকলকে শ্রীমা সন্তানের ন্যায় ভালোবাসতেন। নিজের মায়ের মতোই তিনি সকলের সুখ-সুবিধার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতেন। শুধু তাই নয়, আশ্রমের বৃক্ষলতা ও পশুপাখির প্রতিও মায়ের গভীর ভালোবাসা ছিল। আশ্রমে নতুন অতিথি এলে মা তাদের বুঝিয়ে দিতেন, কেউ যেন এদের প্রতি অসম্মান না করেন। কেউ যেন গাছের পাতা বা ফুল না ছেঁড়েন। অকারণে গাছের ডাল না ভাঙেন। মা সব সময় কাজ নিয়ে থাকতে ভালোবাসতেন। দিনরাত শুধু কাজ আর কাজ। কাজই যেন ছিল তাঁর জীবন। আজীবন তিনি কামনাহীন কর্মযজ্ঞ করে গেছেন। মা শুধু একজন জ্ঞানতপস্বিনী বা রুক্ষ যোগিনীই ছিলেন না। তাঁর মধ্যে প্রচন্ড সৌন্দর্যবোধও ছিল। এক নিবিড় সৌন্দর্যবোধের দ্বারা তিনি বহিঃপ্রকৃতি ও অন্তঃপ্রকৃতির মধ্যে চমৎকার সামঞ্জস্য সাধন করে চলতেন। তিনি চাইতেন মানুষের অন্তঃপ্রকৃতিও এমনি বাইরের প্রকৃতির মতো সুন্দর হয়ে উঠুক। এভাবে তিনি আশ্রমটিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমিরূপে গড়ে তুলেছিলেন। উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায় যে, শ্রীমার কাজের আলোকে লিপি দেবীর কাজটি অত্যন্ত যথার্থ।

5 views

Related Questions