1 Answers
উদ্দীপকের শিমুলের মধ্যে যে মহাপুরুষের আদর্শ লুকায়িত আছে তিনি হলেন শ্রীশঙ্করাচার্য।
শ্রীশঙ্করাচার্য ছিলেন একজন মহাপুরুষ। তাঁর প্রচলিত ধর্মীয় শিক্ষা মানবজীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। উদ্দীপকে শিমুলের ক্ষেত্রে বেশিদিন আয়ু না থাকা এবং বাকি জীবন ব্রহ্ম সাধনা করে কাটানোর সিদ্ধান্ত শ্রীশঙ্করাচার্যের জীবনীর সাথেই মিলে যায়। এ কারণেই বলা যায়, তার মাঝে উক্ত মহাপুরুষের আদর্শই লুকায়িত আছে। অল্প বয়সে মৃত্যুর যোগ আছে জানার পর শ্রীশঙ্করাচার্য জীবন ও জগৎ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে লাগলেন। তিনি ভাবলেন, মোক্ষলাভই মানুষের চরম ও পরম লক্ষ্য। তাই তিনি বাকি জীবন ব্রহ্ম সাধনায় কাটাতে চান। এরপর ধর্মগুরু হিসেবে শুরু হয় শঙ্করের নতুন জীবন। তাঁর অনেক শিষ্যও জুটে যায়। তিনি তখন আচার্য নামে খ্যাত। শঙ্করাচার্য বদরিকাশ্রম থেকে পূণ্যধাম বারাণসীতে আসেন। সেখানে ধর্ম প্রচার শুরু করেন। তাঁর ধর্মের মূল কথা 'অদ্বৈতবাদ'। তিনি বলেন, 'ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই।' শঙ্করের এই মতবাদ প্রথমে অনেকেই মানতে চাননি। কিন্তু তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও বাগ্মিতার কাছে সবাই হার মানেন। তাঁর মতবাদ মেনে নেন। তিনি একে একে কুমারিল ভট্ট, মণ্ডন মিশ্র প্রভৃতি বিখ্যাত পণ্ডিতদের শাস্ত্র বিচারে পরাজিত করেন। শঙ্কর তাঁর মতবাদ প্রচারের জন্য সারা ভারতবর্ষ ঘুরে বেড়ান। তিনি ভারতবর্ষের চার প্রান্তে চারটি মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। দ্বারকায় সারদা মঠ, পুরীতে গোবর্ধন মঠ, জ্যোতির্ধামে (বদরিকাশ্রমে) যোশী মঠ এবং রামেশ্বরে শৃঙ্গেরী মঠ। এই মঠ পরিচালনার জন্য তাঁর চারজন শিষ্যকে, দায়িত্ব অর্পণ করেন। তাঁরা হলেন যথাক্রমে সুরেশ্বর, পদ্মপাদ, তোটকাচার্য ও হস্তামলকাচার্য। শঙ্করাচার্য বিভিন্ন দলীয় সন্ন্যাসীদের এসব মঠে নিয়ে আসেন এবং তাঁদের শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করে তোলোন। এটা তাঁর একটি উজ্জ্বল কীর্তি।