1 Answers

বৈদিক যুগের প্রার্থনায় দেখা যায় জীবের সমৃদ্ধি, জীবের প্রতি স্নেহপ্রীতি এবং জগতের শান্তি কামনা এই প্রার্থনাগুলোর মধ্য দিয়ে এক পরমশক্তি ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করা হয়েছে। একে ঈশ্বরবাদ বলা যায়।

 এখানে উল্লেখ্য, বৈদিক যুগে ধর্মানুষ্ঠানের রূপ ছিল যজ্ঞক্রিয়া। যজ্ঞকর্মের অনুশীলন করে মানুষ অভীষ্ট কর্মফল লাভ করতে পারতেন। এটিকে পরবর্তীকালে বলা হলো যাগ-যজ্ঞাদির কাম্যকর্ম, জীবের সংসার বন্ধনের কারণ এগুলো মোক্ষলাভের সহায়ক নয়। যজ্ঞকর্ম সুষ্ঠুভবে সম্পাদিত হলে যজ্ঞকারীর অভীষ্ট ফল লাভ হয় এমনকি স্বর্গপ্রাপ্তিও ঘটে। কিন্তু পুণ্য ক্ষয় হলে জীবকে স্বর্গভোগ ছেড়ে পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হয়। মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈশ্বর লাভ বা মোক্ষলাভ। বৈদিক যুগের উপনিষদ ও দার্শনিক চিন্তার পর্যায়ে এসে তৎকালীন ঋষিগণ উপলব্ধি করেন, মোক্ষলাভই জীবনের উদ্দেশ্য আর এ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য কাম্যকর্ম পরিত্যাগ করে সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ করতে হবে। এখানে এসে সনাতন ধর্মচিন্তায় নতুন উপলব্ধি এসে যায়। মোক্ষলাভের সহায়ক ধর্মচিন্তার ভোগবাদের স্থলে সন্ন্যাসবাদের আবির্ভাব ঘটে। এ স্তরে মুক্তিলাভের পথ প্রদর্শক হিসেবে বহু  উপনিষদ গ্রন্থ রচনা হয়। এ পর্যন্ত দুইশতেরও অধিক উপনিষদের পরিচয় জানা যায়। তবে কৌষিতকী, ঐতরেয়, ছান্দোগ্য,  কেন, কঠ, তৈত্তিরীয় প্রভৃতি বারো খানকে প্রধান ও প্রামাণ উপনিষদ বলা হয়। এগুলোর মধ্যেও পরস্পর মতভেদ রয়েছে ব্রহ্মলাভের পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে মহর্ষি দৈপায়ন বেদব্যা 'ব্রহ্মসূত্র' গ্রন্থে সমন্বয় বিধানের চেষ্টা করেছেন। একেই বলা হয় বেদান্ত দর্শন। এখানে উল্লেখ্য, ব্রহ্মসূত্রের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ নিয়ে অদ্বৈতবাদ, বিশিষ্ট অদ্বৈতবাদ, ভেদবাদ, অভেদবাদ, ভেদাভেদবা প্রভৃতি দার্শনিক মতবাদের উত্থান ঘটে এবং হিন্দুদর্শন চিন্তায়  এবং  সমৃদ্ধ যুগের সূচনা হয়। বৈদিক যুগের ধর্মচিন্তায় কাম্যকার মোক্ষদায়ক নয়। তাই বেদান্তের ব্রহ্মচিন্তা হিন্দুধর্মের চিন্তাজগণে এক পরিবর্তন ধরা পড়ে। যার ফলে হিন্দুধর্ম বিকাশ লাভ করে এজন্য বলা হয় বেদকে কেন্দ্র করে হিন্দুধর্ম বিকাশ লাভ করেছিল ।

 

4 views

Related Questions