1 Answers

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে উল্লিখিত বিষয়টি তথা মুজিবনগর সরকার গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

১৯৭০-৭১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য দ্বারা মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা ছিল এ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' দেশের সাধারণ নির্বাচনে 'X' দল নির্বাচিত হলেও ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করায় দেশটির ছাত্র-জনতা, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবীসহ সবাই আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনকে সঠিকভাবে পরিচালনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সুবিধার্থে একটি ছায়া সরকার গঠন করা হয়। এটিই হলো মুজিবনগর সরকার। মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে। এসব মিশন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। মুজিবনগর সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ দেয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব নেতৃত্বে ও জনমতের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী  গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ১০ এপ্রিল সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে। ১১ এপ্রিল তা পুনর্নির্ধারিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে দেশকে পাকিস্তানিদের দখলমুক্ত করতে যুদ্ধ পরিচালনা করেছে। তাই বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে উল্লিখিত বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

4 views

Related Questions