1 Answers

হ্যাঁ, আমি মনে করি রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই মূলত মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিল।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি রাজনৈতিক যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ প্রথমে পূর্ব বাংলার জনগণকে স্বাধিকার আন্দোলনে সংগঠিত করে। এরপর ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পর জনগণকে স্বাধীনতা আনয়নে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাকে সাড়া দিয়ে জনগণ মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাংলাদেশ সরকার গঠন করে। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাকে ১০ এপ্রিল ১৯৭১ 'আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। এতে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, উপযোগিতা এবং এর ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রণীত হয়। ২৫ মার্চের পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংগঠিত হয়ে সরকার গঠন, মুক্তিবাহিনী গঠন, বিদেশে জনমত সৃষ্টি ও সমর্থন আদায়, যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ এবং জনগণের মনোবল অটুট রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধকে সফল করার ক্ষেত্রে সকল শক্তি, মেধা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে সক্ষম হন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাকবাহিনীর সমর্থনে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, পিডিপিসহ কতিপয় দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে। দলগুলো শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আল শামস নামক বিশেষ বাহিনী গঠন করে। এসব বাহিনী হত্যা, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ, নারীর সম্ভ্রমহানির মতো মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। স্বাধীনতাবিরোধী এ বাহিনীগুলো মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাঙালিদের মেধাশূন্য করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এদেশের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। রাজনৈতিক দলগুলো এসব ঘৃণ্য অপরাধীদের প্রতিহত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সর্বোপরি বলা যায়, রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই মূলত মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিল।

4 views

Related Questions