1 Answers
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস একক কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণির আন্দোলনের ইতিহাস নয়। সাড়ে সাত কোটি মানুষের সংগ্রামের এ ইতিহাস জনগণের মুক্তির ইতিহাস। তাই একক কোনো শ্রেণি বা ব্যক্তিকে এ যুদ্ধের কৃতিত্ব দেওয়া যায় না। মশিউরের পিতার মতো ব্যক্তিরা অর্থাৎ, ছাত্ররাই কেবল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে সার্থক করে তুলেছিলেন- একথা বলার সুযোগ নেই। কেননা মুক্তিযুদ্ধে বাংলার নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব, ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষিত, নিরক্ষর, পেশাজীবী, বেকার, পুলিশ, আনসার, ইপিআর, সেনা-নৌ-বিমান বাহিনীর সদস্য, এক কথায় আপামর জনসাধারণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সব ধরনের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফসল এ মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা। সবাই মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। যে যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন দেশটাকে স্বাধীন করার জন্য। তবে ছাত্রসমাজ ছিল সে সময়ে সবচেয়ে অগ্রগামী দল। স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রদের কোনো পিছুটান থাকে না। অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে তারাই সবসময় সবার আগে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তাদের সংখ্যা বেশি থাকবে, এটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু একমাত্র তাদের জন্যই দেশটা স্বাধীন হয়েছে, তা বলা যাবে না। মুক্তিকামী সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্যই এ দেশটাকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। চিহ্নিত রাজাকাররা ছাড়া সবাই দেশটাকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলন করেছিল।