1 Answers
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকের শামসুন্নাহারের মতো প্রত্যেক মা-ই তার ছেলেকে অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখতে সক্ষম। কেননা পরিবার সামাজিকীকরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পরিবারের মধ্যেই সামাজিকীকরণের ক্ষেত্র প্রস্তুত থাকে শিশুর জন্মের আগে থেকেই। পরিবারে শিশু তার পিতামাতা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনকে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাতে ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠান সম্পাদন করতে দেখে। শিশু-কিশোররা পরিবারে অন্যদের ধর্মীয় আচরণ যেমন- কুরআন শরীফ, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, বাইবেল এবং ত্রিপিটক পাঠ করতে দেখে ও শোনে। এসব বিষয় শিশুর ভবিষ্যৎ ধর্মীয় জীবনকে প্রভাবিত করে। ধর্মানুভূতি ঐক্য ও সংহতি এবং সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ কমিয়ে দেয়। শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয়। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগে অনুপ্রাণিত করে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমে শিশু-কিশোরেরা অংশগ্রহণ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় অনুষ্ঠান শিশু মনে গভীর রেখাপাত করে। তাদের বাহ্যিক আচার-ব্যবহারকে সংযত করে এবং নৈতিক উন্নতি সাধন করে। এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ব্যক্তির বিবেকবোধ ও চেতনাকে জাগ্রত করে। পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় করে। সৌহার্দ ও সম্প্রীতি বাড়িয়ে তোলে, যা শিশু-কিশোরদের নৈতিকতা বিকাশে সহায়তা করে। সম্প্রীতির শিক্ষা মনের সংকীর্ণতাকে দূরীভূত করে।
তাই বলা যায়, প্রত্যেক পরিবারেই যদি সন্তানদের সঠিকভাবে ধর্মীয় জ্ঞান প্রয়োগ করা হয় তবে প্রত্যেক মা-ই তার সন্তানকে অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখতে পারবে।