1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. ইমনের নিজ দেশ ও সফররত দেশের মাথাপিছু আয় যথাক্রমে উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশকে নির্দেশ করে। দেশ দুটির মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য রয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য বিদ্যমান। উন্নত দেশের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশের জাতীয় আয় অনেক কম থাকে। উন্নত দেশের অর্থনীতি শিল্পনির্ভর হয় কিন্তু উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে কৃষির প্রাধান্য বেশি থাকে। উন্নত দেশের মাথাপিছু আয় বেশি হওয়ায় জনগণ উন্নত জীবনযাত্রা নির্বাহ করে। উন্নত দেশের সঞ্চয়, মূলধন গঠন ও বিনিয়োগে উচ্চহার বজায় থাকে। অপরদিকে, উন্নয়নশীল দেশে মূলধন গঠন ও বিনিয়োগের নিম্নহার এবং এর ফলে ব্যাপক বেকারত্ব দেখা যায়। উন্নত দেশের আর্থসামাজিক অবস্থায় উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা, উন্নত ব্যাংক ব্যবস্থা, জনসংখ্যা বৃদ্ধির অত্যন্ত নিম্নহার, বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানির পর্যাপ্ততা লক্ষ করা যায়। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশের আর্থসামাজিক অবস্থায় অনুন্নত দেশের অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। উন্নত দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য লাভজনক ও বিস্তৃত হয় যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সহায়ক হয়। অপরদিকে, উন্নয়নশীল দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে অধিকাংশ সময়ই ঘাটতি থাকে। উন্নত দেশে ব্যাপক নগরায়ণ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিদ্যমান থাকে যা উন্নয়নশীল দেশে খুব কমই লক্ষ করা যায়। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বিস্তার পার্থক্য থাকলেও উন্নয়নশীল দেশ পরিকল্পিত উপায়ে উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে দ্রুত উন্নয়ন লাভের চেষ্টা করে।

উদ্দীপকে মি. ইমন উচ্চ শিক্ষার্থে জাপান এসেছেন। জাপানের মাথাপিছু আয় ৪২,১৫০ ইউএস ডলার যা উন্নত দেশের বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে। আর মি. ইমনের নিজের দেশের মাথাপিছু আয় ৬৪০ ইউএস ডলার যা উন্নয়নশীল দেশের বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। এ দুটি দেশের মধ্যে উপরোল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য বিদ্যমান।

6 views

Related Questions