1 Answers

উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এ যথাক্রমে রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক ও অপরিহার্য কাজের উদাহরণ দেখা যায়।

রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নতির জন্য নাগরিকদের নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশের লক্ষ্যে রাষ্ট্র যেসব কাজ করে তাকে ঐচ্ছিক কাজ বলে। জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খাদ্যের চাহিদা পূরণ এবং বেকার ও বয়স্কদের জন্য ভাতা প্রদান ইত্যাদি রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক কাজ হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনীতিতে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা, দুর্নীতি প্রতিরোধ শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, যৌতুক ও বর্ণ বা গোত্রপ্রথা দূরীকরণ, বাল্যবিবাহ রোধ এবং জেন্ডার প্রতিষ্ঠা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন: রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণ, রেলপথ, নৌচলাচল, বিমান যোগাযোগ প্রভৃতি কল্যাণমূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রে বসবাসরত জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্র যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেগুলোকে অপরিহার্য বা মুখ্য কাজ বলা হয়। আইন-কানুন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের শান্তি- শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনগণের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা বিধান, ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন ও পরিচালনা করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক বিভিন্ন কার্যাবলি যেমন : বাজেট প্রণয়ন, মুদ্রাস্ফীতি রোধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ইত্যাদিও রাষ্ট্রের অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একথা স্পষ্টতই প্রতীয়মান, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বজায় রাখা এবং সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অপরিহার্য ও কল্যাণমূলক উভয় কার্যাবলিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

6 views

Related Questions