1 Answers
উদ্দীপকে ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে।
যে অর্থব্যবস্থায় জমি, খনি, কলকারখানা প্রভৃতি উৎপাদন উপকরণ ব্যক্তিমালিকানায় থাকে তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলা হয়। এই অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন কার্যের সিদ্ধান্ত গ্রহণে পুঁজিপতিরা পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে। এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো হস্তক্ষেপ করে না। উদ্দীপকে আফাজ সাহেবের কর্মকাণ্ডে সর্বাধিক মুনাফা অর্জন করার যে উদ্দেশ্য লক্ষ করা যায় সেটি ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থারই বৈশিষ্ট্য। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ যথা- ভূমি, শ্রম, মূল্পন ও সংগঠন ব্যক্তিমালিকানাধীন। এ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যেই উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। যেসব দ্রব্যের ক্ষেত্রে মুনাফার সম্ভাবনা বেশি, উৎপাদনকারীরা সেসব দ্রব্যেই বেশি বিনিয়োগ করে। সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য থাকে বিধায় উদ্যোক্তা/পুঁজিপতিরা দ্রব্যের উৎপাদন ব্যয় কম রাখতে ও বেশি মূল্য পেতে চেষ্টা করে। উৎপাদন ব্যয় কম রাখার জন্য শ্রমিককে তার ন্যায্য মজুরির চেয়ে কম মজুরি দেওয়া হয়। এই উদ্বৃত্ত মজুরি পুঁজিপতি ও উদ্যোক্তার কাছে মুনাফা হিসেবে সঞ্চিত হয়। এভাবে উৎপাদিত সম্পদ বণ্টনে অসমতা ও বৈষম্য সৃষ্টি হয়। শ্রমিক প্রাপ্যের চেয়ে কম মজুরি পান আর পুঁজিপতি ও উদ্যোক্তা তাদের প্রাপ্যের চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করেন। উদ্দীপকেও উক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ দেখা যায়। আফাজ সাহেবের প্রতিষ্ঠানগুলো তার ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং সর্বাধিক মুনাফা অর্জন করার জন্য তিনি শ্রমিকদের বেতন-ভাতা কম দিয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করেন।
তাই বলা যায়, আফাজ সাহেবের কর্মকাণ্ডে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।