1 Answers
কাশ্মীরে রাষ্ট্র গঠনের চারটি উপাদানের মধ্যে সার্বভৌমত্ব উপাদানটি অনুপস্থিত।
সার্বভৌমত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য বা মুখ্য উপাদান। প্রত্যেক রাষ্ট্রই একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা দ্বারা পরিবেষ্টিত। ভূখণ্ড বলতে স্থলভাগ, সমুদ্রসীমা, আকাশসীমাও বোঝায়। কাশ্মীর দুটি রাষ্ট্রের সীমানায় অবস্থিত হলেও এর নির্দিষ্ট ভূখণ্ড রয়েছে। তাছাড়া কাশ্মীরের নির্দিষ্ট জনসংখ্যা রয়েছে, রাজ্য পরিচালনার জন্য একটি আঞ্চলিক সরকারও রয়েছে। শুধুমাত্র সার্বভৌমত্ব বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রীয় সরকার। যা কাশ্মীরে নেই। তাই কাশ্মীর শুধুমাত্র আঞ্চলিক সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি রাজ্য। রাষ্ট্রের জনগণের বসবাসের মাধ্যমে অথবা সাংবিধানিকভাবে নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ আবশ্যক। জনসমষ্টি ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, সংগ্রাম ও যুদ্ধের মাধ্যমে অথবা সাংবিধানিকভাবে নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিটি রাষ্ট্রই ভূখণ্ডের সীমানাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তোলে। ভারত পাকিস্তান রাষ্ট্রও তেমনি কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে বা সীমানায় নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তুলেছে। ভূখণ্ড বিশাল বড় বা ছোট হতে পারে। উদ্দীপকেও আমরা লক্ষ করি, ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র জন্ম লাভের পর থেকে কাশ্মীর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ লেগেই থেকে। দুটি রাষ্ট্রই কাশ্মীরকে নিজেদের আয়ত্তে নিতে চায়। মূলত এটি একটি স্বার্থগত দ্বন্দ্ব। তাই কাশ্মীর এ দুটি রাষ্ট্রের সীমানায় অবস্থিত এবং এর নিজস্ব কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। তাই সার্বভৌমত্ব না থাকায় কাশ্মীরকে রাষ্ট্র বলা যায় না।