1 Answers
সৎ চেতনা ও কুশলকর্মের প্রভাবে সামান্য দাসী হওয়া সত্ত্বেও তিনি বৌদ্ধধর্মে স্মরণীয় হয়ে আছেন। আমি এ বিষয়টির সাথে একমত।
ছিল তার নিত্যকর্ম। প্রভুর দণ্ড ও কটুবাক্যের ভয়ে তিনি শীতের ভোরেও নদীতে নেমে জল আহরণ করতেন। তিনি যে নদীতে জল আনতে যেতেন সে নদীতে হাঁড়কাঁপানো শীতের ভোরে পাপমুক্ত হওয়ার জন্য এক উদকশুদ্ধি ব্রাহ্মণ স্নান করতেন। উদকশুদ্ধি হলো জলে ভিজে জীবন শুদ্ধ করার ব্রত। একদিন পূর্ণিকা ব্রাহ্মণকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, পাপকর্মের ফল ধৌত করার জন্য তিনি এরূপ কাজ করেন। বার্ধক্যে বা যৌবনে যে পাপকর্ম করা হয় স্নানশুদ্ধির দ্বারা ঐ পাপ হতে মুক্ত হওয়া যায়। তখন পূর্ণিকা বলেন, দেহ ধৌত না করে আগে মনের ক্লেশসমূহ ধৌত করতে হবে। প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো পাপকর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি পাপকর্ম করে থাকেন, তাহলে দুঃখ হতে মুক্তির উপায় নেই। পলায়ন করেও মুক্তি পাওয়া যাবে না। যদি দুঃখের ভয় থাকে, যদি দুঃখ আপনার অপ্রিয় হয়, তাহলে বুদ্ধ, ধর্ম ও সঙ্ঘের স্মরণ গ্রহণ করুন, শীল পালন করুন। এরূপ যুক্তি প্রদর্শন করে পূর্ণিকা স্নানশুদ্ধির অসারতা প্রমাণ করে ব্রাহ্মণকে স্বমতে আনতে সমর্থ হয়েছিলেন। এতে তার প্রভু খুশি হয়ে তাকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দেন। মুক্তি পেয়ে তিনি সঙ্ঘে প্রবেশ করে অর্হত্ব ফল লাভ করেন।
সুতরাং আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সৎ চেতনা ও কুশলকর্মের প্রভাবেই তিনি দাসী হওয়া সত্ত্বেও খ্যাতিলাভ করেন। অধ্যবসায় ও সাধনার বলে নারীরাও অর্হত্ব লাভ করতে পারে।