1 Answers

তন্ময়ের বাবার মৃত্যুর পর সে যে বাবার শ্রাদ্ধ করবে তেমন অর্থ তার হাতে ছিল না। সে নির্মল কুমারের কাছে জানতে পারে যার যেমন সামর্থ্য সে অনুযায়ী সে শ্রাদ্ধ পালন করতে পারবে। শ্রদ্ধার শব্দের সাথে 'অন' প্রত্যয়যোগে শ্রাদ্ধ শব্দ গঠিত। তাই শ্রদ্ধার সাথে যা দান করা হয় তাই শ্রাদ্ধ। শাস্ত্রমতে, অশৌচ পালন করে শরীরকে শ্রাদ্ধের জন্য উপযোগী করে তুলতে হয়। এ সময় মাছ, মাংস, ডিম পরিহার করে ফলমূল খেতে হয়। বড় পুত্র আদ্যশ্রাদ্ধের অধিকারী হলেও শ্রাদ্ধের দিন প্রত্যেক পুত্রকেই কিছু না কিছু দান করতে হয়। তবে সে দান যদি শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য তবে শ্রাদ্ধের উদ্দেশ্য সফল হবে না। অনেক সময় দেখা যায়, লোক দেখানোর জন্য অনেকে প্রচুর টাকাপয়সা খরচ করে শ্রাদ্ধ করে। এ রকম শ্রাদ্ধ ঈশ্বরের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আবার অনেক সময় টাকাপয়সা খরচ করার ভয়ে শ্রাদ্ধ পালনে অনীহা দেখা যায় বা মনে অশ্রদ্ধা আসে। এ রকম করা যাবে না। শাস্ত্রে ছয়, আট, ষোল দানের কথা উল্লেখ আছে। তবে অশ্রদ্ধার সাথে ষোলদান করলে শ্রাদ্ধ হবে না। কিন্তু শ্রদ্ধার সাথে ছয় দান করলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে। তাই শ্রদ্ধার সাথে মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল, তাম্বুল, মালা, বিছানা উৎসর্গ করতে হবে। পরিশেষে নির্মল কুমারের ভাষায় বলতে হয়, যেখানে শ্রদ্ধার সংযোগ আছে সেখানে অনাড়ম্বর থাকলেও শ্রাদ্ধ হয়।

4 views

Related Questions