1 Answers

১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় ঘটে। ২২ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ভারত থেকে ঢাকায় আসে এবং শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং সরকারপ্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন, প্রশাসনিক পুনর্গঠন, এক কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসন, সংবিধান প্রণয়ন, নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠান, ভারতের মিত্রবাহিনীর সদস্যদের সে দেশে ফেরত পাঠানো, বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় ইত্যাদি তাঁর শাসন আমলের উল্লেখযোগ্য অর্জন। মুক্তিযুদ্ধের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ যখন ব্যস্ত তখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি, খাদ্য সংকট, ১৯৭৩-৭৪ সালের বন্যায় দেশে খাদ্যোৎপাদন দারুণভাবে ব্যাহত হয়। ফলে খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়। দেশের অভ্যন্তরে মজুতদার, দুর্নীতিবাজ এবং ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী তৎপর হতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর সরকার জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং শোষণহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দল নিয়ে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক-আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠন করে। দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি নতুন একটি ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। এটিকে তিনি তাঁর 'দ্বিতীয় বিপ্লব' বলে অভিহিত করেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর শোষণহীন সমাজ গঠনের এ উদ্যোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

4 views

Related Questions