উদ্দীপকের প্রাণপ্রিয় নেতাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন-বিশ্লেষণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
উদ্দীপকের প্রাণপ্রিয় নেতা বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে (২৫ মার্চ রাত ১২টার পর) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ঘোষণাটি ছিল ইংরেজিতে, যাতে বিশ্ববাসী ঘোষণাটি বুঝতে পারেন। স্বাধীনতা ঘোষণার বাংলা অনুবাদ "ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছে, যাহার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ কর। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।” (বাংলাদেশ গেজেট, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী, ৩ জুলাই ২০১১)। স্বাধীনতার এ ঘোষণা বাংলাদেশের সকল স্থানে তদানীন্তন ইপিআর-এর ট্রান্সমিটার, টেলিগ্রাম, ও টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে প্রচার করা হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম.এ হান্নান চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্র থেকে একবার এবং সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার প্রচার করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং এর প্রতি বাঙালি সামরিক, আধা-সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সমর্থন ও অংশগ্রহণের খবরে স্বাধীনতাকামী জনগণ উজ্জীবিত হয়। উদ্দীপকে রওনক একজন নেতার কথা উল্লেখ করেছে, যিনি জনগণের প্রাণপ্রিয় নেতা ছিলেন। তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক। উল্লিখিত আলোচনা থেকে তাই এটা স্পষ্ট যে, উদ্দীপকের প্রাণপ্রিয় নেতাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।