1 Answers

হ্যাঁ, আমি দুলু মিয়ার বাবার বক্তব্যের সাথে পুরাপুরি একমত।

উদ্দীপকের দুলু মিয়া তার বাবার নিকট ১৯৭৫ সালের ৩ জেল হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিলে তার বাবা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার বলেন, "এ হত্যার মূল উদ্দেশ্য হলো- বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের অর্জনসমূহ ধ্বংস করা।” দুলু মিয়ার বাবার এ বক্তব্য যথোপযুক্ত ও বাস্তবসম্মত।

কারাগার হচ্ছে সুরক্ষিত স্থান। কারাগারের মতো সুরক্ষিত স্থানে আটক অবস্থায় এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে বিরল। এ হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন প্রজন্মের চেতনা থেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ মুছে ফেলা। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সেনাশাসন আমলের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডই তার প্রমাণ। এ সময়কালে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের নীতি ও চেতনাসমূহ বাতিল করে দেওয়া হয়। স্বাধীনতাবিরোধী, পাকিস্তানপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তিদের সমাজ ও রাজনীতিতে পুনর্বাসন করা হয়। সর্বোপরি, দেশের সর্বস্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অপশক্তির রাজত্ব কায়েম হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়।

পরিশেষে বলা যায়, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড ছিল জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা ঘটনার ধারাবাহিকতারই অংশ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের অর্জনসমূহ ধ্বংস এবং বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করাই ছিল এ হত্যাকান্ডের মূল উদ্দেশ্য।

4 views

Related Questions