1 Answers
ব্রাহ্মণদের প্রভবেই হিন্দুরা বৈদিক ধর্ম থেকে সরে এসেছে। এ ব্যাপারে উদ্দীপকের পঞ্চানন কর্মকার এর বক্তব্যের সাথে আমি একমত পোষণ করি।
খ্রিষ্টপূর্ব চার শতক থেকেই এই উপমহাদেশের তিনটি বড় ধর্ম-বৈদিক, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের প্রভাব বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। মূলত মধ্যদেশ থেকে আগত ব্রাহ্মণরা বঙ্গদেশের নানা জায়গায় বসতি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠ শতকে বৈদিক ধর্ম ও সংস্কৃতির ঢেউ বাংলার সীমানা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। পাল আমলেও বৈদিক ধর্মের প্রভাব প্রতিপত্তি অটুট ছিল। বর্ম ও সেন রাজাদের রাজত্বকালে বৈদিক ধর্ম আরও প্রসার লাভ করে। কিন্তু কালক্রমে বৈদিক যাগ-যজ্ঞে পৌরাণিক দেব-দেবী ও বিশেষ বিশেষ তিথি নক্ষত্রে স্নান-দান-ধ্যান ক্রিয়াকর্মের প্রচলন শুরু হয়। নামকরণ, অন্নপ্রাশন, উপনয়ন, গৃহপ্রবেশ ইত্যাদি সংস্কার ব্রাহ্মণ্য সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
বৈদিক ও ব্রাহ্মণ্য ধর্ম বাংলার বুকে দ্রুত প্রসার লাভ করলেও কালক্রমে এর মধ্যে বিবর্তন দেখা দেয়। এ সময়ে আগের দেব-দেবীর পরিবর্তে নতুন নতুন দেব-দেবীর পূজা শুরু হয়। পরিবর্তন হতে থাকে ধর্মীয় রীতি-নীতির। ওই সময়কার শাসকরা মূলত ছিলেন ব্রাহ্ম ধর্মমতের। যার ফলে ব্রাহ্ম ধর্মমতের অনুসারীরা তাদের ধর্ম পালনের রীতিনীতিতে পরিবর্তন আনলে এর প্রভাবে বৈদিক ধর্মেও পরিবর্তন হতে শুরু করে। উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, ব্রাহ্মণদের প্রভাবেই হিন্দুরা বৈদিক ধর্ম থেকে সরে এসেছে। তাই পঞ্চানন কর্মকারের বক্তব্য যথার্থ।