1 Answers
উদ্দীপকে মুক্তির প্রথম ধাপ বলতে সোপাদিসেস নির্বাণকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে আমরা জেনেছি নির্বাণ দুই প্রকার। যথা- সোপাদিসেস নির্বাণ এবং অনুপাদিসেস নির্বাণ। নিচে সােপাদিসেস নির্বাণ বর্ণনা করা হলো- পে, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞান এই পাঁচটি উপাদানকে বৌদ্ধ রিভাষায় পঞ্চস্কন্ধ বলা হয়। পঞ্চস্কন্ধ বিদ্যমান অবস্থায় দুঃখসমূহের বিনাশ করে কোনো সাধক পুরুষ নির্বাণের জ্ঞান উপলব্ধি করলে তাকে বলে সোপাদিসেস নির্বাণ। জীবিত অর্হৎ সোপাদিসেস নির্বাণ লাভ গরন। তিনি নির্বাণ প্রত্যক্ষ করেন, তৃষ্ণামুক্ত হন, কিন্তু জীবিত থাকেন বধায় জরা, ব্যাধি, আনন্দ-বেদনা রহিত নন। তবে বর্তমান জন্মই তাঁর এর জন্ম। তিনি চতুরার্য সত্য সম্যকরূপে প্রত্যক্ষ করেছেন, আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণ করে ধ্যান-সমাধি দ্বারা সাধনার মাধ্যমে মার্গফল লাভ করেছেন।
উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় যে, ছয় বছর কঠোর সাধনার দ্বারা গয়ার বোধিবৃক্ষমূলে দুঃখ ও তৃষ্ণার ক্ষয় করে গৌতম বুদ্ধ যে নির্বাণ লাভ করেছিলেন তার নাম সোপাদিসেস নির্বাণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দীপঙ্কর দুঃখ থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে গৃহত্যাগ করে কঠোর সাধনা বলে মুক্তির পথ খুঁজে পান। অর্থাৎ তিনি বোধিজ্ঞান লাভ করেন। তাই তিনি তখন যে বিশেষ অবস্থা প্রাপ্ত হন সেটি মুক্তির প্রথম ধাপ বা সোপাদিসেস নির্বাণ। অর্থাৎ দীপঙ্করের প্রাপ্ত মুক্তির প্রথম ধাপ সোপাদিসেস নির্বাণের ইঙ্গিত বহন করে।