1 Answers
"করণীয় অনুসারে কর্ম চার প্রকার”- শীর্ষক বাক্যটি যথার্থ।
বৌদ্ধধর্মের মূল ভিত্তিই হলো 'কর্মবাদ'। মানুষ নিজ নিজ কর্ম অনুসারে কর্মফল ভোগ করে। ভালো কাজ করলে ভালো ফল এবং মন্দ কাজ করলে মন্দ ফল তাকে ভোগ করতে হবেই। শুধু মানুষ নয়, জীবমাত্রই কর্মের অধীন।
বৌদ্ধধর্ম মতে, করণীয় অনুসারে কর্ম চার প্রকার। ক. জনক কর্ম: যে কর্ম পুনর্জন্ম ঘটায়, জীবিতকালে যে কর্ম স্কন্ধ ও কর্মজরূপ উৎপাদক এবং কুশল-অকুশল চেতনামূলক তাই জনক কর্ম। জনক কর্ম অতীত কর্মেরই ফল। খ. উপস্তম্ভক কর্ম: যে কর্ম জনক কর্মকে সাহায্য করে তাই উপস্তম্ভক কর্ম। উপস্তম্ভক কর্ম জনক কর্মকে ফল প্রদানে সাহায্য করে। জনক কর্মের প্রভাবে জন্ম হয় আর বেঁচে থাকা হয় উপস্তম্ভক কর্মের প্রভাবে। গ. উৎপীড়ক বা উপপীড়ক কর্ম: এ জাতীয় কর্ম জনক কর্ম বা উপস্তম্ভক কর্মের বিপাককে দুর্বল করে কিংবা বাধা দেয়। কুশল উৎপীড়ক কর্ম অকুশল উপস্তম্ভক কর্মকে, অকুশল উৎপীড়ক কর্ম কুশল উপস্তম্ভক কর্মকে বাধা দেয় এবং দুর্বল করে। ঘ. উপঘাতক কর্ম: এ ধরনের কর্মের কাজ হলো বাঁধা দেওয়া। এ রকম কর্ম শুধু বাধা দেয় না, বরং জনক কর্মকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে নিজের আধিপত্য বিস্তার করে। ফল উৎপন্ন করাই হলো এর কাজ।
পরিশেষে বলা যায়, কর্মের জন্য জীবের উৎপত্তি, কর্মের মাধ্যমে তার স্বীকৃতি, কর্মই তার বন্ধু, কর্মই তার আশ্রয়। কর্মের দ্বারা উন্নত জীবন যেমন লাভ হয় তেমনি কর্মের দ্বারা হীন জীবনও লাভ হয়।