1 Answers

মোক্ষলাভের উপায় হিসেবে জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ দুটি যোগের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।

মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি হলো ঈশ্বর প্রাপ্তি বা মোক্ষলাভ। ঋষিগণ মোক্ষলাভের উপায় হিসেবে তিনটি সাধন পথের নির্দেশ দিয়ে গেছেন। এর মধ্যে জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ অন্যতম। উদ্দীপকের চিত্রে ভক্তিযোগের দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে। জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ দুটি দু'ধরনের সাধন পথ। মোক্ষলাভের অন্যতম উপায় হচ্ছে জ্ঞানযোগ। জ্ঞানের পথে স্রষ্টাকে জানার যে সাধনা তাকেই বলেই জ্ঞানযোগ। জ্ঞানী জগৎ ও জীবের প্রকৃতি ও পরিণতি জেনে সৃষ্টির উর্ধ্বে অন্তরে ঈশ্বরকে অনুভব করেন। জ্ঞানী ব্যক্তি উপলব্ধি করেন যে, প্রত্যেক জীবের মধ্যে যে জীবাত্মা রয়েছে তা বিশ্বআত্মা বা পরমাত্মা। জ্ঞানীর দৃষ্টিতে পরমাত্মার অবস্থান ধরা পড়ে বিশ্ব চরাচরের মধ্যে। জ্ঞান পরম পবিত্র। সকল অপবিত্রতাকে দূর করে দেওয়ার ক্ষমতা জ্ঞানের রয়েছে। জ্ঞানীর পাপ বিনষ্ট হয়। জ্ঞানের উদয় হলে অজ্ঞানতা থাকতে পারে না। জ্ঞানীর কর্মবন্ধন থাকে না বলে জ্ঞানী পরম সুখে অবস্থান করেন। তাই জ্ঞান লাভের জন্য আমরা সবাই যত্নশীল হব। আর ভক্তিযোগে ভক্তের চিত্তে ভগবানের অশেষ করুণা ও সর্বশক্তিমত্তায় থাকে গভীর বিশ্বাস। এ বিশ্বাস অবলম্বন করে ভক্ত ভগবানকে একমাত্র আশ্রয়স্থল মনে করেন। ভগবানে শরণাগতি বা আত্মসমর্পণই ভক্তিযোগের সারকথা। উভয় পথেই মোক্ষলাভ করার জন্য প্রয়াস চালানো যায়।

6 views

Related Questions