1 Answers

ব্রহ্ম যখন জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন, তখন তাঁকে। ঈশ্বর বলা হয়। ঈশ্বরকে পরমেশ্বর নামেও ডাকা হয়। তিনি জগতের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং ধ্বংসকর্তা। ঈশ্বরের রূপের। শেষ নেই। তিনি অনন্তরূপী। জ্ঞানীর কাছে তিনি ব্রহ্ম, যোগীর কাছে তিনি পরমাত্মা এবং ভক্তের কাছে ভগবান।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একটি শ্লোকে ঈশ্বর সম্পর্কে বলা হয়েছে-,

তুমাদিদেবঃ পুরুষঃ পুরাণ-
স্কৃমস্য বিশ্বস্য পরং নিধানম্।
বেত্তাসি বেদ্যঞ্জ পরঞ্চ ধাম
ত্বয়া ততং বিশ্বমনন্তরূপ। (১১/৩৮)

অর্থাৎ 'তুমি আদিদেব, তুমি অনাদি পুরুষ, তুমি বিশ্বের পরম আশ্রয় স্বরূপ, তুমি একমাত্র জ্ঞাতব্য এবং জ্ঞাতা। তুমি একমাত্র পরম স্থান। হে অনন্তরূপ, তুমি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে প্রসারিত একমাত্র প্রভু। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার এই শ্লোক থেকে সহজেই ঈশ্বরের মহিমা ও শক্তি প্রতীয়মান হয়। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ঈশ্বর অনন্ত অসীম, তাঁর কোনো পরিবর্তন নেই। তিনি শাশ্বত। তিনি জগতের আদি কারণ, তিনি বিধাতা। তাঁর কোনো স্রষ্টা নেই। তিনি স্বয়ম্ভু অর্থাৎ নিজে নিজেই সৃষ্ট হয়েছেন। তিনি নিত্য, শুদ্ধ ও পরম পবিত্র। তিনি সকল কর্মের ফলদাতা। যে যে রকম কর্ম করে, তিনি তাকে সে রকম ফল দিয়ে থাকেন। ঈশ্বর নিরাকার। প্রয়োজনে তিনি সাকার হতে পারেন। কারণ অনন্ত তাঁর শক্তি। ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজ করেন। ঋগ্বেদ অনুসারে তিনি পরম পুরুষ, তাঁর সহস্র মস্তক, সহস্র চক্ষু, সহস্র চরণ। এ কথার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সর্বব্যাপিতাই বোঝানো হয়েছে। তিনি অদ্বিতীয় জ্যোতিঃস্বরূপ, তিনি সকলের মধ্যে বিরাজ করেন।

6 views

Related Questions