ফিলিমনের মধ্যে সমাজ পরিবর্তনে খ্রিষ্টের দেখানো কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)
1 Answers
ফিলিমনের মধ্যে সমাজ পরিবর্তনে খ্রিষ্টের দেখানো আত্মত্যাগের বা মন পরিবর্তনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। এর ব্যাখ্যা হলো- যীশু শুধু ধনী-দরিদ্রের সম্পর্ক উন্নয়ন, প্রতিটি মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্য ও গুরুত্ব দিতে আহ্বান করেছেন। আমাদের প্রতি যীশুর আহ্বান, "আমি যেমন তোমাদের ভালোবেসেছি, তেমনি তোমরাও পরস্পরকে ভালোবাস।" তিনি সেবা পেতে আসেননি বরং সেবা করতে এসেছেন। তিনি বলেছেন, বড় হতে হলে সবার দাস হতে হবে, প্রধান হতে হলে সবার সেবক হতে হবে, সামনের সম্মানিত আসনে বসতে চাইলে আগে পেছনের সারিতে বসতে হবে। এসব কথা বলার মধ্যে দিয়ে তিনি আমাদের আহ্বান করেছেন যেন আমরা নিজেদের বড় মনে না করি, নিজেকে অন্যদের চাইতে বেশি গুরুত্ব না দিই; সবক্ষেত্রে নিজেকে যেন প্রধান না ভাবি বরং অন্যকে যেন আগে সুযোগ দেই, অন্যের জন্য চিন্তা করি, অন্যের সেবা করি, অন্যের সামনে নিজেদের বিনীত করি। তিনিতো ঈশ্বর ছিলেন, তার সেই ঈশ্বরত্বকে তিনি ধরে রাখেননি বরং তিনি নমিত হলেন ও মানুষের মাঝে বাস করতে আসলেন। তার নম্রতার চরম প্রকাশ তিনি করেছেন কোনো প্রতিবাদ না করে ক্রুশের উপর থেকে ও শত্রুকে ক্ষমা করে দিয়ে।
প্রভু যীশু চেয়েছেন যেন আমরা তার দেখানো পথে চলি, আর তার দেখানো পথ হলো বিশ্বাস, দরিদ্রতা, ভালোবাসা, ক্ষমা, বন্ধুত্ব, নম্রতা, সেবা, পবিত্রতা এবং সর্বোপরি আত্মত্যাগের পথ। তিনি বলেছেন, স্বর্গরাজ্যের জন্য যে নিজের জীবন হারাবে সে তার শতগুণ ফিরে পাবে। তিনি শুধু মন নয় বরং আমাদের হৃদয় পরিবর্তনেও আহ্বান জানান। এর জন্য দরকার আত্মত্যাগ, সংলাপ, পুনর্মিলন, একতা ও ভালোবাসা; প্রতিজন খ্রিষ্টানের দায়িত্ব খ্রিষ্টের দেখানো পথে চলা। একই সাথে খ্রিষ্টের সৎ ও সাহসী সৈনিক হিসেবে অসামাজিকতা দূর করা এবং ন্যায্যতা ও শান্তি স্থাপনে কাজ করা; তবেই সত্য, সুন্দর, শৃঙ্খল ও মনোরম বিশ্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
মূলকথা: মানবসেবায় আত্মত্যাগ।