1 Answers
রফিকের মধ্যে আখলাকে যামিমাহ-এর প্রতারণার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। কেননা সে অধিক লাভের আশায় পণ্য সামগ্রী গুদামজাত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এবং জাল মুদ্রা চালিয়ে দেয়। এছাড়া অন্যের হক নষ্ট করে এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়। এসবই প্রতারণার অংশ।
ইসলামি শরিয়তে প্রতারণা করা, ধোঁকা দেওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম। ব্যবসায়-বাণিজ্য, লেনদেন, আচার-ব্যবহার ও আর্থ-সামাজিক নানা কর্মকান্ডে কোনো অবস্থাতেই প্রতারণা বৈধ নয়। কোনো কাজেই প্রতারণা করা যাবে না, সত্য মিথ্যার মিশ্রণ করা যাবে না এবং সত্য ও প্রকৃত অবস্থা গোপন করা যাবে না।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ
অর্থ : "তোমরা সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ করো না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।" (সূরা আল-বাকারা : ৪২)
প্রতারণা একটি সমাজদ্রোহী অপরাধ। এজন্য প্রতারণাকারীকে কেউ পছন্দ করে না। সে যেমন মানবসমাজে ঘৃণিত তেমনি আল্লাহ তায়ালার নিকটও ঘৃণিত। মহানবি (স.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি দোষযুক্ত পণ্য বিক্রি করে এবং ক্রেতাকে দোষের কথা জানায় না, এমন ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার নিকট ঘৃণিত। ফেরেশতাগণ সর্বদা তাকে অভিশাপ দিতে থাকেন।” (ইবনে মাজাহ)
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ - الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُوْنَ - وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ
অর্থ: "ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। যারা লোকের নিকট থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে এবং যখন তারা মেপে বা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়। (সূরা আল-মুতাফফিফিন: ১-৩)
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, প্রতারণা অত্যন্ত গর্হিত ও ঘৃণিত কাজ। এটি মিথ্যাচারের শামিল। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণা মিথ্যা অপেক্ষাও জঘন্য। কেননা প্রতারণা করার দ্বারা দুটো পাপ হয়। একটি মিথ্যা বলা ও অপরটি বিশ্বাস ভঙ্গ করা। সুতরাং সর্বাবস্থায় প্রতারণা বর্জন করা আবশ্যক।