1 Answers

জর্জ ওয়াশিংটনের মধ্যে বাধ্যতা গুণটি পরিলক্ষিত হয়। এর ব্যাখ্যা হলো- 

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন পিতামাতার খুব বাধ্য ছিলেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি আটলান্টিক সমুদ্র পাড়ি দিয়ে তার ভাইয়ের মতো এ্যাপলবি স্কুলে শিক্ষা গ্রহণের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। যাওয়ার দিন বিদায় নেওয়ার জন্য তিনি তার মায়ের সাথে দেখা করতে গেলেন। মা তার এ ১৫ বছর বয়সের ছেলেকে কঠোর পরিশ্রমের মাঝে শিক্ষালাভের ব্যাপারে তেমন উৎসাহী ছিলেন না। তিনি তার ছেলের গৃহত্যাগের প্রাক্কালে অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে ছেলের সামনে এসে দাঁড়ান; এত ছোট ছেলের বিক্ষুব্ধ আটলান্টিক সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার ব্যাপারে তিনি মোটেও আগ্রহী ছিলেন না। তবুও তিনি ছেলের যাওয়ার সময় তাকে কোনো বাধা দিতে চাইলেন না। বিদায়বেলায় মা-ছেলে যখন মুখোমুখি তখনই ছেলে ওয়াশিংটন তার মায়ের চোখে জল দেখে তার শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার অভিপ্রায় ত্যাগ করে বলেছিলেন, "আমি সমুদ্রে গিয়ে আমার মায়ের হৃদয় বিদীর্ণ করতে চাই না।" মা তার এ কথা শুনে এতই আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন যে, তিনি তার ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে অত্যন্ত স্নেহভরে বলেছিলেন, "বাবা, আমি তোমাকে আশীর্বাদ করি, তুমি একদিন খুব বড় মানুষ হও।" আর ঠিকই জর্জ ওয়াশিংটন তার ব্যক্তিগত শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষালাভ করে এক সময় এক বিরল সম্মানজনক ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়েছিলেন।

সুতরাং মায়ের প্রতি জর্জ ওয়াশিংটনের এ বাধ্যতা ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি আমেরিকার সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব মরণোত্তর জেনারেল অব দি আর্মিজ অব দি ইউএসএ' ভূষিত হয়েছিলেন।

মূলকথা: আমেরিকার ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত জর্জ ওয়াশিংটনের মতো আর দ্বিতীয় কোনো প্রেসিডেন্টের আবির্ভাব ঘটেনি।

5 views

Related Questions