1 Answers

খ্রিষ্টভক্ত হিসেবে আমাদের মুক্তির প্রথম অর্থ হলো যীশুকে মুক্তিদাতারূপে গ্রহণ করা, বিশ্বাস করা ও তার শিক্ষা অনুসারে জীবনযাপন করা। যীশুর নির্দেশিত পথে চললে আমরা সব ধরনের মুক্তি লাভ করতে পারি। তাই আমি মনে করি অপুর বাবা মা অপুর ক্ষেত্রে যীশুর মুক্তি লাভের উপায় কামনা করে বলে। এ ক্ষেত্রে আমার যুক্তি হলো-

যীশু এ পৃথিবীতে এসেছিলেন মানুষকে জীবন দিতে, শারীরিক রোগ যন্ত্রণা বা দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্ত করতে; তিনি পিতার ভালোবাসা সবার কাছে প্রকাশ করতে চেয়েছেন এবং তাঁর মুখের কথায় মানুষকে নানারকম রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত করেছেন। তিনি পঙ্গকে হাঁটার ক্ষমতা, দৃষ্টিহীনকে দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধীকে বাক ও শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন, সমাজে উপেক্ষিত ও অবহেলিত কুষ্ঠরোগীকে তিনি নিরাময় করে সুস্থ ও সুন্দর জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন। তারা মুক্তি লাভ করেছে। নিরাময়তা ও মুক্তিলাভের পর তারা হয়ে উঠেছে খ্রিষ্টবিশ্বাসী। অপুর মা বাবাও চান অপু যীশুর যোগ্য ভক্ত হোক।

মানুষ তখন অপুর মতো নানারকম আত্মদ্বন্দ্ব, ভয়, হিংসা, অহঙ্কার, স্বার্থপরতার বেড়াজালে আটকে গিয়েছিল। যীশু মানুষের মনের দ্বন্দ্ব নিরসন করে, তার মনের ভয়ভীতি, হিংসা, অহঙ্কার, লোভলালসা ও স্বার্থপরতার বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে স্বাধীন ও আনন্দময় জীবনদান করতে এবং মানুষের মন থেকে পাপকালিমা মুছে দিতে চেয়েছেন। যারা তাকে বিশ্বাস করে তারা সেই স্বাধীন ও আনন্দময় জীবন লাভ করে; অপুর মা বাবাও কামনা অপু এমন হোক।

খ্রিষ্ট নিজেই মুক্তচিন্তার মানুষ ছিলেন, তিনি স্বাধীনভাবে তার চিন্তা, ধারণা, মতামত প্রকাশ করেছেন বলেই ইহুদিরা তাঁকে হত্যা করেছিল। কারণ তিনি যা সত্য বলে জানতেন ও বিশ্বাস করতেন তা-ই প্রকাশ্যে বলতেন। যীশু চান আমরাও যেন মুক্তচিন্তার মানুষ হয়ে উঠি, চিন্তাচেতনার মধ্যে সেই মুক্ত মানুষের রূপ প্রতিফলিত করি। অপুর বাবা মাও অপুকে মুক্ত চিন্তার মানুষরূপে দেখতে চান।

মানুষের অন্তর বা আত্মা হলে মুক্তির ভিত্তি, অর্থাৎ আধ্যাত্মিক মুক্তি লাভ করলে মানুষ প্রশান্তি লাভ করে। খ্রিষ্ট নিজেই আমাদের এ প্রশান্তি ও মুক্তির জন্য আহ্বান করেন। তিনি বলেন, "ওহে পরিশ্রান্ত, ওহে ভারাক্রান্ত, আমার কাছে এসো, আমি তোমাকে দিব প্রাণের আরাম।" অপুর বাবা মা চান অপু এমন আহ্বানে সাড়া দিক।

যীশু এসেছিলেন পদদলিত মানুষকে উন্নীত করতে, সামাজিকভাবে যারা উপেক্ষিত, নিগৃহীত তাদের উপরে তুলে ধরতে, অর্থাৎ মর্যাদার স্থানে উন্নীত করতে; তিনি এসেছিলেন সমাজের বতি, শোষিত, অত্যাচারিত, নির্যাতিতদের পক্ষ নিতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং সামাজিক ন্যায্যতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। একজন খ্রিষ্টভক্ত সামাজিক মুক্তি কামনা করে এবং সামাজিক ন্যায্যতার মাধ্যমে মুক্তি ও স্বাধীনতা লাভ করে। অপুর বাবা মা চান অপু তেমন একজন খ্রিষ্টভক্ত হোক।

যীশু এ পৃথিবীতে এসেছিলেন দীনদরিদ্রদের কাছে মঙ্গলবার্তা প্রচার করতে; দরিদ্র ও ক্ষমতাহীনদের পক্ষ নিয়ে তিনি কাজ করেছেন এবং ক্ষমতা ও অর্থলোভী মানুষদের তিনি ধিক্কার দিয়ে কথা বলেছেন। ধনী লোক ও গরিব লাজারের গল্প বলে মানুষের জীবনে মুক্তির প্রকৃত অর্থ সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছেন। বর্তমানেও খ্রিষ্টভক্তরা অর্থনৈতিক মুক্তি লাভ করে, দারিদ্র বিমোচন করে, সমাজের দরিদ্র মানুষের মুক্তি আনয়ন ও স্বাধীন জীবন কামনা করে। অপুর বাবা-মা অপুর এরকম খ্রিষ্টভক্ত হওয়া কামনা করেন। মূলকথা: মুক্তি লাভের মধ্য দিয়ে একজন খ্রিষ্টভক্ত ঈশ্বরকে লাভ করার বিষয়টিকে পরম প্রাপ্তি বলে স্বীকার করে।

5 views

Related Questions