1 Answers

উদ্দীপকের মহান ব্যক্তি হলেন হযরত উমর (রা.)। কারণ উদ্দীপকে আমরা তাঁরই বৈশিষ্ট্য লক্ষ করি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে হযরত উমর (রা.) যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তা হলো-

১. বিচারকার্যে হযরত উমর ফারুক (রা.) অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ও কঠোর ছিলেন। নিরপেক্ষ ও নিখুঁত বিচার ব্যবস্থাই ছিল তাঁর জীবনের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। আইনের চোখে উঁচু-নীচু, ধনী- দরিদ্র, আপন-পর, মুসলিম-অমুসলিম কোনো ভেদাভেদ ছিল না। অপরাধের জন্য নিজ পুত্রকে তিনি কঠিন শাস্তি দিয়েছিলেন। 

২. হযরত উমর (রা.) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সমগ্র ইসলামি সাম্রাজ্যকে ১৪টি প্রদেশে বিভক্ত করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। 

৩. খলিফা উমর (রা.) স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করেন। বিচারক বা কাজি এবং আদালত তাদের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ স্বাধীন ছিল। 

৪. বিচারকার্যের অধিকতর সুষ্ঠুতা বিধানের জন্য হযরত উমর (রা.) প্রাজ্ঞ লোককে বিচারক হিসেবে নিয়োগ করতেন। যারা স্বাধীন, নিষ্কলুষ, চরিত্রবান, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, সুদ্ধ। ও পূর্ণ বোধশক্তিসম্পন্ন, শরিয়তের পণ্ডিত বলে স্বীকৃতয়াএবং আল্লাহভীরু তারাই মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন।

৫. কাজি বিচারকার্যে ভুলও করতে পারেন। এরূপ ক্ষেত্রে আপিলের ব্যবস্থা ছিল। খলিফা নিজে এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি কাজিদের রায় প্রয়োজনে পুনর্বিবেচনা করে দেখতেন।

পরিশেষে বলা যায়, হযরত উমর (রা.) ছিলেন সাম্য ও মানবতাবোধের মহান আদর্শ। ন্যায় ও জবাবদিহিমূলক শাসন প্রতিষ্ঠা, প্রজাকল্যাণ সাধন করে তিনি ইতিহাসে অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে আছেন।

4 views

Related Questions