1 Answers
উদ্দীপকে 'এ মহান ব্যক্তি' বলতে হযরত আবু বকর (রা.)-কে বোঝানো হয়েছে। কারণ একমাত্র তিনিই রাসুল (স.) কর্তৃক সিদ্দিক উপাধি লাভ করেছিলেন।
মহানবি (স.)-এর ইন্তিকালের পর হযরত আবু বকর (রা.) মুসলিম জাহানের খলিফা নির্বাচিত হন। খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি বলেন, "আমি যতদিন আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলের নির্দেশিত পথে চলি ততদিন তোমরা আমায় অনুসরণ করবে আর আমাকে সাহায্য করবে। আর ভুল পথে চললে তোমরা আমাকে সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করে দেবে। তোমাদের মধ্যে যারা দুর্বল, তাদের হক আদায় না করা পর্যন্ত তারা আমার কাছে সবল ও শক্তিশালী। আর যারা সবল তাদের নিকট থেকে হকদারের হক আদায় না করা পর্যন্ত তারা আমার নিকট দুর্বল।"
হযরত আবু বকর (রা.)-এর এ ভাষণ সর্বকালের শাসকদের জন্য আদর্শ। আজও যদি শাসকবৃন্দ আল্লাহর ভয়ে নিজেদের দোষত্রুটি সম্পর্কে সচেতন হন এবং দোষত্রুটি সংশোধনের মানসিকতা সৃষ্টি করেন তাহলে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা অবশ্যই বিরাজ করবে।
হযরত আবু বকর (রা.) একদা সৈন্যবাহিনীর উদ্দেশে বলেন, "তোমরা প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা কর না, শত্রুদের অঙ্গ বিকৃত কর না, বৃদ্ধ ও মহিলাদের হত্যা কর না। খেজুর গাছ জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিও না, ফলবান বৃক্ষ কর্তন কর না, যখন গির্জার পাশ দিয়ে যাবে তখন গির্জায় জীবন উৎসর্গকারী ব্যক্তিকে তার অবস্থায় ছেড়ে দিও।” হযরত আবু বকর (রা.)-এর এ উক্তির মধ্য দিয়ে তাঁর মহানুভবতা ও ন্যায়পরায়ণতার চিত্র ফুটে ওঠে। একজন রাষ্ট্রনায়ক আবু বকর (রা.)- এর জীবন থেকে তাকওয়া, মহানুভবতা ও ন্যায়পরায়ণতার আদর্শকে শিক্ষণীয় বিষয় হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।