1 Answers

"জাতির ক্রান্তিলগ্নে এরদোগানের চেয়ে বঙ্গবন্ধুর অবদান অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত"- মন্তব্যটি যথার্থ।

জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে যোগ্য নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। প্রত্যেক জাতির ভাগ্যেই দুর্যোগ-বিপর্যয় থাকে। তা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্বের। নেতৃত্বশূন্য জাতি নানাভাবে শোষণ-বঞ্চনার শিকার হতে পারে। সেই সময় জাতিকে সঠিক পথনির্দেশনা দিতে সাহসী ও তেজোদীপ্তরা এগিয়ে আসেন।

উদ্দীপকে তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান রুখতে সে দেশের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েফ এরদোগানের সময়োচিত পদক্ষেপ ও নেতৃত্বের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। উদ্দীপকে প্রেসিডেন্টের আহ্বানে সে দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সামনে বিপথগামী সেনারা টিকতে পারেনি। ফলে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়ে যায়। এ বিষয়টি 'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায় প্রতিফলিত মুক্তির সংগ্রামে এদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য নেতৃত্বের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তবে তা সমতুল্য নয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ছিল বাংলাদেশের মানুষকে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তিদান। অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের এ নেতৃত্ব ছিল শুধু একটি সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দেওয়ার।

'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায় বঙ্গবন্ধু কীভাবে রাজনীতির কবি হয়ে উঠেছিলেন তার পরিচয় আছে। তিনি কীভাবে সময়োচিত নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশকে শত্রুমুক্ত ও স্বাধীন করেছেন সে কথাও কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে, যা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। বাঙালির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর যে অবদান তা এরদোগানের চেয়ে বহুগুণ ব্যাপক ও বিস্তৃত। তিনি বাঙালিকে ভিতর থেকে জাগিয়ে তুলে একটি সুগঠিত হানাদার বাহিনীকে রুখে দিতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ নেতৃত্ব দিয়েছেন দীর্ঘ সংগ্রাম-আন্দোলনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বুকে বুক মিলিয়ে। আর উদ্দীপকের এরদোগানের আহ্বান ছিল ভিডিওবার্তার মাধ্যমে একটি সাময়িক অভ্যুত্থান রুখে দিতে। এসব বিষয় বিবেচনায় তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

4 views

Related Questions