1 Answers

"উদ্দীপকের মূলভাব যেন 'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতার সংগ্রামী চেতনার ফলস্বরূপ।"- মন্তব্যটি যথার্থ। 

কালে কালে বিভিন্ন দেশে বহু মহাপুরুষ, বহু রাষ্ট্রনায়কের আবির্ভাব ঘটেছে। তাঁরা জনগণকে সংঘবদ্ধ করে সংগ্রামের পথে এগিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের সময়োচিত সিদ্ধান্ত ও সংগ্রামী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে স্বাধীনতাকামী মানুষ তাদের মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছে।

উদ্দীপকে বাঙালিদের মহান আত্মত্যাগের রক্তস্নাত পথ বেয়ে 'বাংলাদেশ' স্বাধীন হওয়ার গৌরবোজ্জ্বল দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে স্বাধীনতার জন্য এদেশের মানুষের রক্তমূল্য দেওয়ার বিষয়টির কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়টি 'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতার সংগ্রামী চেতনাকে এবং স্বাধীনতার গুরুত্বের দিকটিকে নির্দেশ করে। এ কবিতায় কবি আমাদেরকে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই দিন রেসকোর্স ময়দানে 'স্বাধীনতা' শব্দটি উচ্চারণ করে বাঙালির সংগ্রামী চেতনা ও শাসকদের শোষণের নানা দিক তুলে ধরে বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার জন্য অহ্বান জানান।

'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায় কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ শোনার জন্য এদেশের সর্বস্তরের লক্ষ লক্ষ মানুষ ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হয়। গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে তাদের উদ্দেশে প্রিয় নেতা উচ্চারণ করেন- 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' সমবেত জনতার মাঝে তাঁর এ অমর কবিতাখানি ছড়িয়ে পড়ে। তারা যথাসময়ে শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করে। উদ্দীপকে তাদের সেই রক্তস্নাত পথেই স্বাধীনতার আগমনের কথা বলা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মূলভাব যেন আলোচ্য কবিতার সংগ্রামী চেতনার ফলস্বরূপ।

6 views

Related Questions