1 Answers
উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতায় প্রতিফলিত বিপ্লব-বিদ্রোহের মতাদর্শের দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মূলত ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার শেষ সূর্য অস্তমিত হয়। এরপর ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিপ্লব, ১৯৩০ সালে ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র যুদ্ধ, ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। এভাবে ইতিহাসের বহু অধ্যায় পার হয়ে, নানা সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাবান জাতি-রাষ্ট্র গঠনে এদেশের মানুষকে স্বদেশপ্রেমে জাগ্রত করতে মহাত্মা গান্ধীর কৃতিত্ব সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একান্ত আপন করে নিয়ে, পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির জন্য সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তিনি। তাঁর এ আহ্বান আলোচ্য 'আমার পরিচয়' কবিতার বিপ্লব-বিদ্রোহের মতাদর্শের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় কবি সৈয়দ শামসুল হক এদেশের অস্তমিত স্বাধীনতার সূর্যকে আবার উদয়ের পথে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের কথা বলেছেন। তিনি কবিতায় বৌদ্ধ কবিদের সৃষ্ট চর্যাপদের মধ্যে বাঙালি জাতিসত্তার অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধের পরিচয়, যুগে যুগে নানা আন্দোলন, বিপ্লব-বিদ্রোহ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের বিকাশধারায় আজকের বাংলায় পৌঁছানোর কথা বলেছেন। সেই ধারায় মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনটি একটি শ্রেষ্ঠ পদক্ষেপ। এভাবে আলোচ্য বিষয়টি কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।