উদ্দীপকটিতে এবং 'মানুষ' কবিতায় মানুষের জয়গানই মুখ্য হয়ে উঠেছে- এর পক্ষে যুক্তি দাও। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
উদ্দীপক ও 'মানুষ' কবিতায় ধর্ম, বর্ণ, গোত্র সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানুষকে স্থান দেওয়া হয়েছে।
মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। সব মানুষ একই পৃথিবীর আলো-বাতাসে লালিত-পালিত। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, দুঃখ-সুখের অনুভূতিও এক ও অভিন্ন। সবার শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে যে রক্ত, তার রংও একই রকম লাল। এসব সত্ত্বেও ধর্ম-বর্ণ-গোত্র, অর্থনৈতিক অবস্থার মানদণ্ডে মানুষের মধ্যে বিভেদ বৈষম্য বিরাজমান। এই বিভেদ মানুষের জন্য মঙ্গলজনক নয়।
'মানুষ' কবিতায় কবি একজন ক্ষুধার্ত ব্যক্তির খাবারের আশায় মন্দিরের পুরোহিত, মসজিদের মোল্লার কাছে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ফিরে আসাকে দেখিয়েছেন। প্রতিটি ধর্মেই মানুষকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। অথচ মন্দির বা মসজিদের পুরোহিত বা মোল্লারা তা স্বার্থের কারণে ভুলে যায়। তাই ধনীরা উপাসনালয়ে প্রবেশ করতে পারলেও দরিদ্র, ক্ষুধার্ত মানুষেরা সেক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়। কবি এই বিভেদের প্রাচীর ভেঙ্গে দিতে চান। তাঁর কাছে মানুষই বড়, তার অন্য কোনো পরিচয় বড় নয়। উদ্দীপকেও মানুষকেই শ্রেষ্ঠ বলে উপস্থাপন করা হয়েছে। কবির কাছে মানুষ প্রকৃত পরিচয়ের কাছে তুচ্ছ হয়ে গেছে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-জাত।
মানুষের 'মানুষ' পরিচয়ই শ্রেষ্ঠ। মানুষ যদি তার প্রকৃত পরিচয়ে পরিচিত হতো, তা হলে মানুষে মানুষে এত বিভেদ থাকত না। এই পৃথিবীতে মানুষই সবকিছুর উর্ধ্বে। উদ্দীপক ও 'মানুষ' কবিতায় এভাবেই মানুষের জয়গান গাওয়া হয়েছে।