1 Answers

"উদ্দীপকের দ্বিতীয়াংশ এবং 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার ঘটকের ভাবধারা একই সূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

ইংরেজিতে Sonnet বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতা। চৌদ্দ চরণ-সমন্বিত ভাবসংহত সুনির্দিষ্ট কবিতা সনেট। বাংলা সাহিত্যে অনেকেই সনেট রচনা করেছেন। সনেটে প্রথমত থাকে ভাবের প্রবর্তনা এবং পরবর্তীতে ভাবের পরিণতি।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটি একটি সনেট জাতীয় কবিতা। এ কবিতার প্রথম আট চরণ বা অষ্টকে রয়েছে ভাবের প্রবর্তনা এবং পরবর্তী ছয় চরণ মানে ষটকে রয়েছে ভাবের পরিণতি। ষটকে কবির ভাবের পরিণতি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি কিছুতেই কপোতাক্ষ নদকে ভুলতে পারেন না। কপোতাক্ষ নদ ছাড়া অন্য কোনো নদ-নদীর জল কবির তৃষা মেটাতে পারে না। কবি তাই ফিরে আসতে চান মাতৃভূমিতে। কিন্তু তিনি আশঙ্কা করেন কখনো ফিরতে পারবেন কিনা। উদ্দীপকের দ্বিতীয়াংশের অনুভূতি যেন 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার ঘটকের ভাব। কারণ এখানে কবি অপরূপা জন্মভূমিকে ফিরে পাওয়ার আকুলতা ব্যক্ত করেছেন। যেখানেই যান তাঁর মনে প্রিয় জন্মভূমির স্মৃতি সদা জাগরুক।

উদ্দীপকের কবি বিদেশ-বিভূঁইয়ে জন্মভূমিকে স্মরণ করে নীরবে অশ্রু বিসর্জন করেছেন এবং কখনই জন্মভূমির সঙ্গে মিলিত হওয়ার আশা ত্যাগ করেননি। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবিও সুদূর প্রবাসে বসে স্বদেশের নদের কথা মনে করেছেন। পুনরায় তার কাছে ফিরে আসার অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন। তাই বলা হয়েছে, উদ্দীপকের দ্বিতীয়াংশের অনুভূতি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার ঘটকের ভাবে ফুটে উঠেছে।

4 views

Related Questions