1 Answers
উদ্দীপকটি 'বঙ্গবাণী' কবিতার বাংলা ভাষাবিদ্বেষী আরবি ভাষা অনুরাগীদের কর্মকাণ্ডের দিকটিকে নির্দেশ করেছে।
মুসলমানরা আরবি ভাষাকে যতটা পছন্দ করত, বাংলা ভাষাকে ততটাই অবজ্ঞা করত। তারা যুক্তি দেখাত যে, আরবি হচ্ছে কোরানের ভাষা আর বাংলা হচ্ছে সংস্কৃত ঘেঁষা। সে কারণে তারা বাংলাকে 'হিন্দুর অক্ষর' বলে মনে করত। তাদের অসচেতনতার অভাবেই এমনটি হয়েছিল। অথচ স্রষ্টা মানুষের সব ভাষাই বুঝতে পারেন।
উদ্দীপকে উনিশ শতকে আরবি শিক্ষার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগ ও কুসংস্কারের দিকটি নির্দেশ করা হয়েছে। মূলমানরা তখন শিক্ষা বলতে ধর্ম-শিক্ষাকেই বুঝত এবং বোঝাত। তাদের এ ধারণা ছিল আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষার অন্তরায়। তখন সামাজিক বন্ধন বলতে ধর্মের বন্ধনকেই মনে করা হতো, যা ছিল তাদের বিকাশের বিপরীত। উদ্দীপকের এই বিষয়টি 'বঙ্গবাণী' কবিতায় কবি বাংলা ভাষাবিদ্বেষীদের প্রতি যে ইঙ্গিত করেছেন তার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সেকালে একশ্রেণির মানুষ ধর্মীয় বিষয়কে বাংলা ভাষায় প্রকাশের ঘোর বিরোধী ছিলেন। অথচ তাদের বোধগম্য ভাষা হচ্ছে মাতৃভাষা বাংলা। এ সময় মুসলমানরা বাংলা ভাষাকে 'হিন্দুয়ানি' বাণী বলে আভিহিত করেছে এবং বাংলা ভাষায় জ্ঞানচর্চা থেকে দূরে থেকেছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি 'বঙ্গবাণী' কবিতার বাংলা ভাষাবিদ্বেষী আরবি ভাষা অনুরাগীদের কর্মকাণ্ডের দিকটিকে নির্দেশ করেছে।