1 Answers
হ্যাঁ, আমি রফিকের মতামত সমর্থন করি। কারণ অমর্যাদাকর সব ব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটিয়ে ইসলাম নারীকে দিয়েছে সম্মানজনক এক সামাজিক স্বীকৃতি। জীবনের বিভিন্ন স্তরে ইসলাম প্রদত্ত এ মর্যাদাগুলো প্রতিষ্ঠিত। আমার মতের স্বপক্ষে যুক্তি প্রদান করা হলো-
১. ইসলাম নারীকে মৌলিক অধিকার ভোগ-ব্যবহার করার ক্ষেত্রে পুরুষের সমানই মর্যাদা দিয়েছে।
২. ইসলাম নারীকে ব্যক্তিস্বাধীনতা দান করেছে। ইসলামই সর্বপ্রথম নারীর ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি দিয়েছে। আর সামগ্রিক বিষয়াবলিতে তাকে মতামত প্রকাশের অধিকার দান করেছে।
৩. ইসলাম নারী-পুরুষ ও দলমত নির্বিশেষে সকলকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদাদান করেছে। যেমন- বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও সমালোচনা ইত্যাদি।
৪. ইসলাম পুরুষের ন্যায় নারীকেও সমানভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা, মর্যাদা ও আধ্যাত্মিক উন্নতির উৎকর্ষ সাধনে অধিকার দিয়েছে।
৫. ইসলাম নারীকে সামাজিক ক্ষেত্রে পুরুষের সমান মর্যাদাদান করেছে।
৬. ইসলাম নারীকে স্বামীর তরফ থেকে সদাচরণ পাওয়ার আইনগত অধিকার দান করেছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَعَاشِرُوْهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
অর্থাৎ, “তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার কর।"
৭. ইসলাম নারীর জীবন, সম্পদ, ইজ্জত, আবু, মানসম্মান ইত্যাদি নিয়ে বেঁচে থাকার পূর্ণ নিরাপত্তার অধিকার দিয়েছে।
৮. কন্যা সন্তানকে সকল সমাজেই কুলক্ষণ বলা হয়েছে। অথচ ইসলামই কন্যাকে সৌভাগ্যের প্রতীকরূপে ঘোষণা করেছে।
৯ ইসলামে মা হিসেবে নারীকে যে উঁচু মর্যাদা ও সম্মান দেওয়া হয়েছে দুনিয়ার অপর কোনো ধর্মে তার তুলনা হতে পারে না। মহানবি (স.) বলেন, "মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত।"
১০. পিতা এবং স্বামীর তরফ থেকে নারীকে সম্পত্তির অধিকার প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু নারীর সম্পদে পুরুষের অধিকার নেই। এক্ষেত্রেও নারীকে করা হয়েছে উচ্চ সম্মানে উন্নীত।
পরিশেষে বলা যায়, আজকের যুগে প্রগতিশীল অপশক্তি 'নারী মুক্তি' নামে নারীকে আবার ইসলাম-পূর্ব যুগের সে যাতনাক্লিষ্ট অমর্যাদাকর জীবনের দিকে ধাবিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। কিন্তু ইতিহাসের সাক্ষ্য এটাই- যথার্থ মর্যাদা ও মুক্তির স্বাদ পেতে হলে নারীদেরকে অবশ্যই ইসলামের ছায়াতলে ফিরে আসতে হবে।