1 Answers

মহাগ্রন্থ আল-কুরআন সম্পর্কে মারুফের ধারণা বা বক্তব্যটি সম্পূর্ণ কুরআনের পরিপন্থি। আল-কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানি কিতাব। কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকলের জন্য এটি পথপ্রদর্শক। তাই এটি অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষণ আবশ্যক। আর এর সংরক্ষণের নিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ নিজেই। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্য আমিই এর সংরক্ষক।" (সূরা আল-হিজর : ৯)

আল-কুরআন নাজিলকালে রাসুল (স.) দ্রুত মুখস্থ করার ব্যাকুলতা দেখে মহান আল্লাহ বলেন, "তাড়াতাড়ি ওহি আয়ত্ত করার জন্য আপনি দ্রুত আপনার জিহ্বা তার সাথে সঞ্চালন করবেন না। এটা সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই।" (সূরা আল-কিয়ামাহ : ১৬-১৭) তারপর রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ব্যাকুলতা দূরীভূত হয় এবং তিনি সহজেই কুরআনের আয়াতগুলো মুখস্থ করে সংরক্ষণ করতে লাগলেন। আল-কুরআন নাজিল হলে রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবিগণকেও তা মুখস্থ করতে বলতেন। এরপর নামাজসহ বিভিন্নভাবে তিলাওয়াত করতেন। তাছাড়া লিখিতভাবেও কুরআন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। যারা এ কাজে নিয়োজিত ছিলেন তাদেরকে কাতিবে ওহি বলা হয়। রাসুল (স.)-এর ৪২ জন কাতিবে ওহী ছিলেন। এভাবে বিভিন্ন উপায়ে আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষণ করবেন।

কিন্তু উদ্দীপকে মারুফ প্রশ্ন করলেন কীভাবে আল-কুরআন বর্তমান কাল পর্যন্ত নিখুঁত ও অবিকৃত অবস্থায় থাকতে পারে। তার বক্তব্যের কোনো যৌক্তিকতা নেই। উপরিউক্ত আলোচনা তাই প্রমাণ করে।

5 views

Related Questions