1 Answers

সেজান সাহেবের দুঃখকষ্ট লাঘবে নাসিরের বক্তব্যটি যথার্থ, যা পাঠ্যপুস্তকের সূরা ইনশিরাহর ৬, ৭ ও ৮নং আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট।

সেজান সাহেব মাত্র ২০,০০০ টাকা মাইনে দিয়ে চার সদস্যের সংসার চালান। তদুপরি কর্তব্যকর্মে অবহেলার মিথ্যা অজুহাতে কর্তৃপক্ষ তার পদোন্নতি আটকে রাখে। সহকর্মী নাসির তাকে প্রবোধ দিয়ে বলেন, শিগগিরই বস বদলি হবেন। তোমার দুঃখ চলে যাবে। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন কর এবং আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ কর। অনুরূপ ঘটনা মহানবি (স.)-এর জীবনে ঘটেছিল। তা হলো নবুয়ত লাভের পর রাসুলুল্লাহ (স.) আরবদের মাঝে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। এতে মক্কার কাফিররা তাঁর বিরোধিতা শুরু করে। তারা নানাভাবে তাঁকে বাধা দিতে চেষ্টা করে। তারা মহানবি (স.) ও নওমুসলিম সাহাবিদের প্রতি অত্যাচার নির্যাতন করতে থাকে। ফলে মুসলমানগণ তাদের অকথ্য জুলুম-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। আল্লাহ তায়ালা এ সময় সূরা ইনশিরাহ্ নাজিল করে মহানবি (স.)-কে সান্ত্বনা প্রদান করেন। তিনি উক্ত সূরার ৬, ৭ ও ৮নং আয়াতে বলেন যে, "দুঃখের পরই সুখ আসে। কাফিরদের এসব অত্যাচার নির্যাতন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। বরং তিনি মুসলমানদের বিজয় দান করবেন। এসব দুঃখকষ্টের পর তারা শান্তি ও স্বস্তি লাভ করবে।” এরপর আল্লাহ তায়ালা মহানবি (স.)-কে বিশেষ নির্দেশ দিয়ে বলেন, যখনই ইসলাম প্রচার, সাথিদের প্রশিক্ষণ, পারিবারিক দায়-দায়িত্ব ইত্যাদি থেকে তিনি অবসর হন তখনই তিনি যেন আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেন। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর চরম দুঃখের সময় আল্লাহ তায়ালা তাঁকে এভাবে সান্ত্বনা দিয়েছেন। একইভাবে সেজান সাহেবের দুঃখকষ্ট লাঘবে নাসির তাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন।

সুতরাং বলা যায়, বিপদাপদ ও দুঃসময়ে ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং অবসরে বা সুযোগ মতো আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করতে হবে। তাহলে দুঃখের পরেই সুখের মুখ দেখা যাবে।

4 views

Related Questions