1 Answers

আমার মতে, প্রমিতা ও সুভার প্রতি পরিজনদের আচরণ সহনশীল ও স্বাভাবিক হলে তাদের জীবনের পরিণতি ভিন্ন হতে পারত। 

আমাদের সমাজ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি স্বাভাবিক আচরণ করে না এবং সহানুভূতি দেখায় না। আমরা পরিবারের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষকে নানাভাবে অবহেলা করি। এতে তারা আরও বেশি কষ্ট পায়। আমাদের উচিত তাদের প্রতি সহনশীল ও স্বাভাবিক আচরণ করা।

'সুভা' গল্পে সুভা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক কিশোরী। সে কথা বলতে না পারলেও সবকিছু বুঝতে পারে। তার অনুভূতি সে প্রকাশ করে চোখের ভাষায় ও কাজের মাধ্যমে। অথচ সে পরিজনদের কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পায় না। তার মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করে দূরে সরিয়ে রাখে, সহ্য করতে পারে না। তার বয়সী ছেলে-মেয়েরাও তার সঙ্গে মেশে না। প্রতাপও ছিপ ফেলে মাছ ধরার সময় একজন মৌন সঙ্গী ছাড়া সে তাকে অন্য কিছুই ভাবে না। উদ্দীপকের প্রমিতাও অনুরূপ অবহেলার শিকার। সে দুর্ঘটনায় পড়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলায় ধীরে ধীরে পরিবারের সবাই তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। বন্ধুরাও তাকে ছেড়ে চলে যায়।

'সুভা' গল্পের সুভা ও উদ্দীপকের প্রমিতা তাদের পরিজনদের দ্বারা অবহেলার শিকার হয়েছে। এটা তাদের জন্য আরও কষ্টের বিষয়। পরিবার-পরিজনদের সহায়তা ও সহানুভূতি পেলে তারা সমাজের অন্য সব স্বাভাবিক মানুষের মতো বাঁচার স্বপ্ন দেখত। আশাহত হয়ে নিজেদের গুটিয়ে নিত না। কারণ বিশেষ চাহিদাসম্পন্নরা যদি তাদের কাছের মানুষদের দ্বারা অবহেলার শিকার না হয়ে তাদের যথাযথ সহানুভূতি লাভ করে, তখন তাদের নিজেদের জীবনকে এতটা দুঃসহ মনে করত না। ফলে তাদের জীবনের পরিণতি ভিন্ন হতে পারত।

5 views

Related Questions