1 Answers
জাহিদ সাহেবের পছন্দের খাবারগুলো কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য। কার্বোহাইড্রেটের পরিপাক বলতে জটিল শর্করাগুলোর ভাঙনে দেহে শোষণ উপযোগী সরল শর্করায় পরিণত হওয়াকে বোঝায়।
কার্বোহাইড্রেটের পরিপাক প্রক্রিয়া নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
ডাইস্যাকারাইড জাতীয় খাবার যেমন- সুক্রোজ, ল্যাকটোজ, মল্টোজ এগুলোর মুখে কোনো পরিপাক ঘটে না। গলবিল দিয়ে খাদ্য অন্ননালিতে প্রবেশ করে। সেখানে অন্ননালির পেশির সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে খাদ্য পাকস্থলিতে প্রবেশ করে। এরপর খাদ্যদ্রব্য অন্ননালি দিয়ে পাকস্থলির ওপরের অংশ ফান্ডাসে এসে পৌঁছায়। এই সময় লালার টায়ালিন খাদ্যের শ্বেতসার জাতীয় উপাদানের আরও কিছু অংশ মল্টোজে পরিণত করে। পাকস্থলির হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্যমন্ডের ভেতরে প্রবেশ করলে টায়ালিনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। হাইড্রোক্লোরিক এসিডের প্রভাবে সুক্রোজ অণুর কিছু অংশ বিশ্লিষ্ট হয়ে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে পরিণত হয়। ক্ষুদ্রান্ত্রে অগ্ন্যাশয় রসের অ্যামাইলোপসিন খাদ্যের সিদ্ধ ও কাঁচা স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিনের আর্দ্র বিশ্লেষণ ঘটায়। ফলে মল্টোজ উৎপন্ন হয়। আন্ত্রিক রসের অ্যামাইলোজ এনজাইম স্টার্চ, ড্রেক্সট্রিন প্রভৃতি পলিস্যাকারাইডকে ভেঙে মন্টোজে পরিণত করে। ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে খাদ্যের অবশিষ্টাংশ বৃহদন্ত্রে পরিচালিত হয়। বৃহদন্ত্র থেকে প্রধানত খাদ্যের জলীয় অংশটুকু দেহে শোষিত হয়। বাকি অংশ মলে পরিণত হয় এবং দেহ থেকে বের হয়ে যায়।
এভাবেই কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যের পরিপাক ক্রিয়া সম্পন্ন হয়।